Creator prompt
The idea behind this presentation
নিচে ছবিগুলোতে থাকা পাঠ্যবইয়ের (ষষ্ঠ অধ্যায়: পরমাণুর গঠন) বিষয়বস্তু অনুযায়ী স্লাইডের কন্টেন্ট তৈরি করা হলো। ছবির টেক্সট হুবহু (Same to same) রাখা হয়েছে, প্রশ্নগুলোর উত্তর স্লাইডের ভেতরেই যুক্ত করা হয়েছে এবং স্লাইড ভিজ্যুয়ালাইজ করার জন্য ছবি ও সিম্বল বসানোর নির্দেশনাও দেওয়া হলো। স্লাইডগুলোকে বইভিত্তিক (Bookish) ও তথ্যসমৃদ্ধ (Informative) করতে একটি আলাদা টেক্সটবুক অ্যানালাইসিস স্লাইডও যোগ করা হয়েছে।
---
### স্লাইড ১: অধ্যায়ের শিরোনাম ও লক্ষ্য
**ষষ্ঠ অধ্যায়**
**পরমাণুর গঠন**
পরমাণু খুব ক্ষুদ্র কণা। তাই এর গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ নয়। তবে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরমাণুর গঠন সম্পর্কে পরীক্ষার ধারণা পাওয়া গেছে। পরমাণুতে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার ভিন্নতার কারণে পরমাণুর ধর্মের পার্থক্য দেখা যায়।
**এ অধ্যায় শেষে আমরা—**
* পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব;
* পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা ব্যাখ্যা করতে পারব;
* আইসোটোপ ব্যাখ্যা করতে পারব;
* ইলেকট্রন বিন্যাস ব্যাখ্যা করতে পারব;
* আয়ন কীভাবে সৃষ্টি হয় ব্যাখ্যা করতে পারব;
* ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের পার্থক্য করতে পারব;
* অ্যানায়ন ও ক্যাটায়ন ব্যবহার করে রাসায়নিক সংকেত প্রণয়ন করতে পারব;
* আইসোটোপের ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব;
* আমাদের জীবনে আইসোটোপের অবদান উপলব্ধি করতে পারব।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডের বাম দিকে একটি পরমাণুর চিত্র (নিউক্লিয়াস ও কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন) এবং ডান দিকে বুলেট পয়েন্টগুলো সাজান।
---
### স্লাইড ২: পরমাণুর ধারণার বিকাশ ও গঠন (পাঠ ১-৩)
১৮০৩ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী জন ডাল্টন (John Dalton) পরীক্ষালব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা সম্বন্ধে বলেন— পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা এবং একে আর ভাগ করা যায় না। ডাল্টনের এ মতবাদ সকল গ্রহণ করে। ফলে অ্যারিস্টটলের মতবাদটি পরিত্যক্ত হয়। আসলে পরমাণু অভিভাজ্য নয় বা ক্ষুদ্রতম কণিকাও নয়, পরমাণু বিভাজ্য। এরা ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। ডাল্টনের পরমাণুবাদের এই সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য পরবর্তীতে আরও অনেক পরমাণু মডেলের প্রস্তাব করেন। এদের মধ্যে রাদারফোর্ড ও বোরের পরমাণু মডেল গ্রহণযোগ্যতা পায়।
একসময় বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড ও তাঁর সহকর্মীরা একটি পরীক্ষা করেন, যা পরমাণুর গঠন সম্পর্কে ভালো ধারণা দেয়। পরীক্ষালব্ধ ফল থেকে রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণুতে ধনাত্মক আধান ও ভর একটি ক্ষুদ্র জায়গায় আবদ্ধ। এই জায়গাটি পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত। তাই তিনি এর নাম দেন নিউক্লিয়াস (Nucleus)। তিনি আরও ব্যাখ্যা দেন যে, পরমাণুর বেড়িভাগ জায়গা ফাঁকা, আর ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণার ভেতরে তিনি একটি নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রে ঘুরে। রাদারফোর্ডের মডেল সৌরজগতের মতো। কিন্তু রাদারফোর্ড নির্দিষ্ট কোনো কক্ষপথের কথা বলেননি।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে রাদারফোর্ডের সোনার পাত পরীক্ষার (Gold Foil Experiment) চিত্র এবং রাদারফোর্ড ও বোরের পরমাণু মডেলের পাশাপাশি চিত্র দিন। চিত্র ৬.১ (হিলিয়াম পরমাণু) লেবেলসহ বসান।
---
### স্লাইড ৩: পারমাণবিক সংখ্যা, ভরসংখ্যা ও আইসোটোপ (পাঠ ৪-৬)
প্রতিটি মৌলের আলাদা আলাদা পরমাণু রয়েছে, যেমন- হাইড্রোজেন গ্যাসের পরমাণু, অক্সিজেন গ্যাসের পরমাণু। একটি মৌলের পরমাণু থেকে আরেকটি মৌলের পরমাণুর মধ্যে আকার, ভর ও ধর্মে পার্থক্য হয়ে থাকে। কেন এই পার্থক্য? কারণ পরমাণুতে প্রোটন বা ইলেকট্রনের সংখ্যার পার্থক্যের কারণে পরমাণুসমূহের মধ্যে পার্থক্য হয়ে থাকে। তোমরা জেনেছ যে, পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। তাই পরমাণুতে ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে। তবে কোনো মৌলের পরমাণুর বৈশিষ্ট্যকে বোঝানোর জন্য প্রোটনের সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।
কোনো মৌলের একটি পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number) বলা হয়। হাইড্রোজেনের একটি পরমাণুতে একটি প্রোটন আছে। তাই হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১। অক্সিজেনের একটি পরমাণুতে ৮টি প্রোটন আছে। তাই অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮।
কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬, এ থেকে কী তথ্য পাওয়া যায়? পারমাণবিক সংখ্যা হতে কোনো মৌলের প্রোটনের সংখ্যা, তাই বোঝা যায় কার্বনের একটি পরমাণুতে ৬টি প্রোটন আর ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান, তাই বোঝা যায় কার্বনের একটি পরমাণুতে ৬টি ইলেকট্রন আছে।
কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা থেকে বোঝা যায় কি ওই মৌলের পরমাণুতে কয়টি নিউট্রন আছে? না, নিউট্রন সংখ্যা জানা যায় না। নিউট্রন সংখ্যা জানতে হলে মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা জানতে হবে। একটি পরমাণুতে ইলেকট্রনের ভর নগণ্য। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভরই নিউক্লিয়াসে থাকে। অর্থাৎ পরমাণুর ভর বলতে প্রোটন ও নিউট্রনের ভরকে বোঝায়। কোনো মৌলের পরমাণুতে প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার যোগফলকে ভরসংখ্যা (Mass Number) বলা হয়।
কোনো মৌলের ভরসংখ্যা = ওই মৌলের পরমাণুতে (প্রোটনের সংখ্যা + নিউট্রনের সংখ্যা)
যেমন অক্সিজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে ৮টি প্রোটন ও ৮টি নিউট্রন আছে। তাই অক্সিজেনের ভরসংখ্যা ১৬।
আবার সোডিয়ামের একটি পরমাণুতে ১১টি প্রোটন আর ১২টি নিউট্রন আছে। তাই সোডিয়ামের ভরসংখ্যা ১১+১২=২৩।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে অক্সিজেন ও সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চিত্র দিন যেখানে প্রোটন ও নিউট্রন দেখানো আছে। ভরসংখ্যার সূত্রটি একটি আলাদা হাইলাইট বক্সে দিন।
---
### স্লাইড ৪: আইসোটোপ ও তার ব্যবহার (পাঠ ৭-৮)
আইসোটোপ: তোমরা ইতোমধ্যে জেনেছ যে, একটি মৌলের প্রতিটি পরমাণুতে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রোটন ও ইলেকট্রন থাকে। কিন্তু একটি মৌলের সকল পরমাণুর ভর এক নাও হতে পারে। কারণ একটি মৌলের বিভিন্ন পরমাণুতে বিভিন্ন সংখ্যায় নিউট্রন থাকতে পারে। যেমন হাইড্রোজেনের সকল পরমাণুতে একটি করে প্রোটন ও ইলেকট্রন থাকে। কিন্তু কিছু পরমাণুতে একটি নিউট্রন থাকে। আবার কিছু পরমাণুতে দুটি নিউট্রন থাকে। এদের ভরসংখ্যা ১। কিন্তু হাইড্রোজেনের কিছু পরমাণুতে একটি নিউট্রন থাকে। এদের ভরসংখ্যা ২। আবার কিছু পরমাণুতে দুটি নিউট্রন থাকে। এদের ভরসংখ্যা ৩। একই মৌলের বিভিন্ন পরমাণুর মধ্যে নিউট্রন সংখ্যার পার্থক্যের কারণে এদের ভরসংখ্যা ভিন্ন হয়। একই মৌলের যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে।
কার্বনের বেশিরভাগ পরমাণুতে ৬টি প্রোটন ও ৬টি নিউট্রন রয়েছে। কিন্তু কার্বনের কিছু পরমাণুতে ৭টি বা ৮টি নিউট্রন থাকতে পারে। এদেরকে কার্বনের প্রধান তিনটি আইসোটোপ রয়েছে।
একই মৌলের বিভিন্ন আইসোটোপের প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান বলে আইসোটোপগুলোর মধ্যে রাসায়নিক ধর্মে তেমন পার্থক্য নেই। তবে ভরসংখ্যার পার্থক্যের কারণে তাদের ভৌত ধর্মে পার্থক্য দেখা যায়। সাধারণত আইসোটোপ অস্থায়ী। অস্থায়ী আইসোটোপ বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় রশ্মি ও কণা বিকিরণ করে। তাই এদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার হয়ে থাকে।
**চিকিৎসা ক্ষেত্রে:** বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে ও নিরাময়ে আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। কোনো ক্ষুদ্র রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কণাগুলো মৌলের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ পাঠিয়ে তা শনাক্ত করা হয়। একইভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর কোনো ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করার জন্য আইসোটোপের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ডাক্তারি যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা হয়।
**কৃষিক্ষেত্রে:** কৃষিক্ষেত্রে পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে আইসোটোপের তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া খাদ্য কোন সার কী পরিমাণ ব্যবহার করতে হবে তা জানতে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
**খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ:** ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে অনেক জীবাণু তেজস্ক্রিয় রশ্মিতে মারা যায়। তাই তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য বা ফলমূলকে জীবাণুমুক্ত করে সংরক্ষণ করা হয়।
**ভূ-তাত্ত্বিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাজে:** তোমরা অনেক সময় শুনে থাকবে যে, কোনো দেশে কয়েক কোটি বছরের পুরোনো ফসিল পাওয়া গেছে। কীভাবে বিজ্ঞানীরা জানেন যে, ফসিলটি কত বছরের পুরোনো? এটি জানা যায় আইসোটোপের ক্ষয় থেকে। কোনো ফসিলের বয়স আইসোটোপের অনুপাত থেকে বোঝা যায় ফসিলটি কত বছরের পুরোনো।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ (প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম) এর চিত্র (চিত্র ৬.২) স্লাইডে দিন। সাথে চিকিৎসা, কৃষি ও ফসিল পরীক্ষার প্রতীকী ছবি যোগ করুন।
---
### স্লাইড ৫: পরমাণুতে ইলেকট্রন বিন্যাস (পাঠ ৯-১১)
তোমরা জেনেছ যে, পরমাণুতে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘুরে এবং তাদের সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে রয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, একটি কক্ষপথে কয়টি ইলেকট্রন থাকবে? চিত্র ৬.২ এর হাইড্রোজেনের চিত্রটি দেখো। হাইড্রোজেন পরমাণুতে ১টি ইলেকট্রন থাকে যা নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘুরে। হিলিয়াম পরমাণুতে (চিত্র ৬.১) ২টি ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে একটি কক্ষপথে ঘুরে।
কক্ষপথগুলোতে 2n² (যেখানে n = ১, ২, ৩........কক্ষপথের ক্রমিক নম্বর) সূত্রানুযায়ী সর্বোচ্চ সংখ্যক ইলেকট্রন বিন্যস্ত থাকতে পারে। ১টি লিথিয়াম পরমাণুতে ৩টি ইলেকট্রন আছে। সুতরাং এদের মধ্যে ২টি ইলেকট্রন প্রথম কক্ষপথে থাকে আর তৃতীয়টি দ্বিতীয় কক্ষপথে থাকে। একইভাবে কার্বন পরমাণুতে ৬টি ইলেকট্রন থাকায় এদের ২টি ইলেকট্রন প্রথম কক্ষপথে এবং বাকি ৪টি ইলেকট্রন দ্বিতীয় কক্ষপথে থাকে। এভাবে প্রথম কক্ষপথে সর্বোচ্চ ২টি, দ্বিতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৮টি এবং তৃতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ ১৮টি ইলেকট্রন থাকতে পারে।
এবার সোডিয়াম পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস দেখা যাক। সোডিয়ামের ১টি পরমাণুতে ১১টি ইলেকট্রন থাকে। তাহলে এর ইলেকট্রনগুলো কয়টি কক্ষপথে থাকবে? নিশ্চয়ই ২, ৮, ১ এভাবে ৩টি কক্ষপথে থাকবে। অর্থাৎ প্রথম কক্ষপথে ২টি, দ্বিতীয় কক্ষপথে ৮টি এবং তৃতীয় কক্ষপথে ১টি থাকবে।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে লিথিয়াম (2,1), কার্বন (2,4) এবং সোডিয়াম (2,8,1) পরমাণুর চিত্র (চিত্র ৬.৫, ৬.৬, ৬.৭) দিন। 2n² সূত্রটি একটি আলাদা রঙিন বক্সে হাইলাইট করুন।
---
### স্লাইড ৬: ইলেকট্রন বিন্যাস ও মৌলের ধর্ম (পাঠ ১২-১৩)
মৌলিক পদার্থের ধর্ম মূলত তাদের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর নির্ভর করে। এ ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিন্নতার কারণে সোডিয়াম ক্ষণস্থায়ী নিষ্ক্রিয়, কখনো সক্রিয় বা আধান যুক্ত হয়।
১টি পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথে যে কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে, যদি ঠিক সেই কয়টি থাকে তাহলে কক্ষপথটি পূর্ণ থাকে। এরকম পরমাণুগুলো বেশি নিষ্ক্রিয় হয়। যেমন হিলিয়াম পরমাণুতে ২টি ইলেকট্রন থাকে। প্রথম কক্ষপথে যেহেতু সর্বোচ্চ ২টি ইলেকট্রন থাকতে পারে, সেহেতু হিলিয়াম পরমাণু বেশি নিষ্ক্রিয় এবং সেগুলো স্থিতিশীল। প্রতিটি পরমাণুর এরকম স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে চায়।
১টি পরমাণুর শেষ কক্ষপথে বা শক্তিস্তরে যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বা কম ইলেকট্রন থাকে তাহলে কী হবে? ঐ পরমাণু অন্য পরমাণু থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে বা অন্য পরমাণুকে ইলেকট্রন দিয়ে বা অন্য পরমাণুর সাথে ভাগাভাগি করে সর্বাধিক স্থিতিশীলতা বা পূর্ণ অবস্থায় আসতে চায়। যেমন সোডিয়াম পরমাণুর প্রথম শক্তিস্তরে ২টি, দ্বিতীয় শক্তিস্তরে ৮টি এবং তৃতীয় শক্তিস্তরে ১টি ইলেকট্রন থাকে। এটি একি সর্বাধিক স্থিতিশীল অবস্থা নয়। নিশ্চয়ই না। তৃতীয় শক্তিস্তরে মাত্র ১টি ইলেকট্রন থাকায় এটি বেশি সক্রিয় এবং খুব স্থিতিশীল নয়। কীভাবে এটি স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারে? সোডিয়াম পরমাণু যদি ১টি ইলেকট্রন অন্য কোনো পরমাণুকে দিয়ে দিতে পারে তাহলে সোডিয়াম পরমাণুতে প্রথম শক্তিস্তরে ২টি এবং দ্বিতীয় শক্তিস্তরে ৮টি ইলেকট্রন থাকবে। এটি একটি স্থিতিশীল অবস্থা।
১টি ইলেকট্রন হারানোর পর সোডিয়াম পরমাণু আর আধান নিরপেক্ষ নেই, আধানযুক্ত হয়েছে। এরকম আধানযুক্ত পরমাণুকে বলে আয়ন। যে আয়নে ধনাত্মক আধান আছে তাকে ক্যাটায়ন বলে। তাহলে সোডিয়াম পরমাণু ১টি ইলেকট্রন হারানোর পর ক্যাটায়নে পরিণত হয়েছে।
এবার আরেকটি উদাহরণ দেখা যাক। ফ্লোরিন পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস ২, ৭। এটি কি সর্বাধিক স্থিতিশীল অবস্থা? নিশ্চয়ই না। কারণ দ্বিতীয় শক্তিস্তরে ৮টি ইলেকট্রন নেই। তাহলে সর্বাধিক স্থিতিশীল অবস্থায় আসতে ফ্লোরিন পরমাণুকে কী করতে হবে? এটি কি সোডিয়াম পরমাণুর মতো ইলেকট্রন অন্যকে দিয়ে দেবে? না, ৭টি ইলেকট্রন দেওয়া বোঝা কম। বরং ফ্লোরিন পরমাণু যদি ১টি ইলেকট্রন কারো কাছ থেকে নিতে পারে তাহলে এটি আরো স্থিতিশীল হতে পারে কারণ তখন এর দ্বিতীয় শক্তিস্তরে ৮টি ইলেকট্রন থাকবে।
ফ্লোরিন পরমাণু ১টি ইলেকট্রন গ্রহণ করার পর ঋণাত্মক আধানযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয়েছে। এরকম ঋণাত্মক আধানযুক্ত আয়নকে অ্যানায়ন বলে।
ইলেকট্রন গ্রহণ বা বর্জনের মাধ্যমে পরমাণু আয়নে পরিণত হয়। ২টি পরমাণুর মধ্যে যেটি ইলেকট্রন বর্জন করে সেটি ক্যাটায়নে বা ধনাত্মক আয়নে এবং যেটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে সেটি ঋণাত্মক আয়নে বা অ্যানায়নে পরিণত হয়। ফলে তাদের মধ্যে একটি বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল কাজ করে। তারা একে অন্যের কাছে আসলে ইলেকট্রন সঞ্চয় পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এভাবে ২টি বা ততোধিক ভিন্ন মৌলের পরমাণু থেকে যৌগ তৈরি হয়।
Na → Na⁺ + e⁻
F + e⁻ → F⁻
Na + F → Na⁺F⁻ বা NaF
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে সোডিয়াম (Na) ও ফ্লোরিন (F) পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের চিত্র দিন। কীভাবে Na ইলেকট্রন ছাড়ছে এবং F তা গ্রহণ করছে, তা তীর চিহ্ন দিয়ে দেখান।
---
### স্লাইড ৭: টেক্সটবুক অ্যানালাইসিস (মূল বিষয়বস্তু)
**পাঠ বিশ্লেষণ (Textbook Analysis):**
এই অধ্যায়টি মূলত রসায়নের মৌলিক ভিত্তি তৈরি করে। এখানে পরমাণুর গঠন, পারমাণবিক সংখ্যা, ভরসংখ্যা, আইসোটোপ এবং ইলেকট্রন বিন্যাসের ধারণা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি পরবর্তী শ্রেণির রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি।
* **প্রথম অংশ:** পরমাণুর ঐতিহাসিক বিকাশ (ডাল্টন থেকে রাদারফোর্ড)।
* **দ্বিতীয় অংশ:** পারমাণবিক সংখ্যা, ভরসংখ্যা এবং আইসোটোপের ধারণা।
* **তৃতীয় অংশ:** ইলেকট্রন বিন্যাস (2n² সূত্র) এবং আয়ন সৃষ্টির প্রক্রিয়া।
* **ব্যবহারিক দিক:** আইসোটোপের বাস্তব জীবনে ব্যবহার (চিকিৎসা, কৃষি, প্রত্নতত্ত্ব)।
* **মূল শিক্ষা:** পরমাণু অভিভাজ্য নয়, এটি ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। পরমাণুগুলো স্থিতিশীল হওয়ার জন্য ইলেকট্রন আদান-প্রদান বা শেয়ার করে।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে একটি মাইন্ড ম্যাপ বা ফ্লোচার্ট দিন যেখানে অধ্যায়ের মূল পয়েন্টগুলো শাখা-প্রশাখা আকারে দেখানো হয়েছে।
---
### স্লাইড ৮: নমুনা প্রশ্ন - বহুনির্বাচনি (MCQ) ও উত্তর
১. একটি পরমাণুর দ্বিতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
ক. ২ খ. ৮ গ. ১৮ ঘ. ৩২
**উত্তর: খ. ৮**
২. রাদারফোর্ডের পরীক্ষণ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় যে-
i. পরমাণু অভিভাজ্য
ii. ইলেকট্রন কিছু নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে
iii. পরমাণুর বেড়িভাগ অংশই ফাঁকা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. ii খ. iii গ. i ও iii ঘ. ii ও iii
**উত্তর: খ. iii** (রাদারফোর্ডের পরীক্ষায় দেখা যায় পরমাণুর বেশিরভাগ অংশ ফাঁকা। ইলেকট্রনের নির্দিষ্ট কক্ষপথের ধারণা দেন বোর)।
**নিচের উদ্দীপকের আলোকে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:**
কোনো মৌলের একটি পরমাণুতে ১০টি প্রোটন ও ৮টি নিউট্রন রয়েছে।
৩. পরমাণুটির ভরসংখ্যা কত?
ক. ১০ খ. ১৬ গ. ১৮ ঘ. ২৬
**উত্তর: গ. ১৮** (ভরসংখ্যা = প্রোটন + নিউট্রন = ১০ + ৮ = ১৮)।
৪. উদ্দীপকে উল্লিখিত মৌলটি কী?
ক. অক্সিজেন খ. সালফার গ. সোডিয়াম ঘ. নিয়ন
**উত্তর: ঘ. নিয়ন** (যেহেতু প্রোটন সংখ্যা ১০, তাই এটি নিয়ন মৌল। প্রশ্নে ভুলবশত ১০ প্রোটন দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ন। যদি অক্সিজেন হতো তবে প্রোটন ৮ এবং নিউট্রন ১০ হতো)।
---
### স্লাইড ৯: নমুনা প্রশ্ন - সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (পর্ব ১)
**১. X পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা ১১। অন্যদিকে Y পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা ১৭ এবং নিউট্রন সংখ্যা ১৮।**
ক. আইসোটোপ কাকে বলে?
**উত্তর:** একই মৌলের যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন (নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন) তাদেরকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে।
খ. Na⁺ একটি ক্যাটায়ন ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** সোডিয়াম (Na) পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা ১১। এর ইলেকট্রন বিন্যাস ২, ৮, ১। শেষ কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন থাকায় এটি স্থিতিশীল নয়। তাই এটি ওই ১টি ইলেকট্রন বর্জন করে স্থিতিশীল হতে চায়। ১টি ইলেকট্রন বর্জন করার পর প্রোটন সংখ্যা (১১) ইলেকট্রন সংখ্যা (১০) থেকে বেশি হয়ে যায়, ফলে ধনাত্মক আধান যুক্ত হয়। এই ধনাত্মক আধানযুক্ত আয়নকেই ক্যাটায়ন বলে। তাই Na⁺ একটি ক্যাটায়ন।
গ. Y পরমাণুর ভরসংখ্যা কত?
**উত্তর:** Y পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা ১৭ এবং নিউট্রন সংখ্যা ১৮।
আমরা জানি, ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা = ১৭ + ১৮ = ৩৫।
সুতরাং, Y পরমাণুর ভরসংখ্যা ৩৫।
ঘ. X ও Y পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস প্রদর্শনপূর্বক এদের বন্ধন তৈরির সামর্থ্য ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** X (সোডিয়াম, পারমাণবিক সংখ্যা ১১) এর ইলেকট্রন বিন্যাস: ২, ৮, ১। শেষ কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন আছে, তাই এটি ১টি ইলেকট্রন বর্জন করে স্থিতিশীল হতে চায়।
Y (ক্লোরিন, পারমাণবিক সংখ্যা ১৭) এর ইলেকট্রন বিন্যাস: ২, ৮, ৭। শেষ কক্ষপথে ৭টি ইলেকট্রন আছে, তাই এটি ১টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে স্থিতিশীল হতে চায়।
যেহেতু X ইলেকট্রন বর্জন করে এবং Y ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাই তারা পরস্পরের সাথে ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে আয়নিক বন্ধন গঠন করে যৌগ (NaCl) তৈরি করবে।
---
### স্লাইড ১০: নমুনা প্রশ্ন - সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (পর্ব ২)
**২. [চিত্র-১ ও চিত্র-২ পরমাণুর মডেল দেওয়া আছে]**
ক. ভরসংখ্যা কাকে বলে?
**উত্তর:** কোনো মৌলের পরমাণুতে প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার যোগফলকে ভরসংখ্যা বলে।
খ. অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮ বলতে বোঝায় অক্সিজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে ৮টি প্রোটন আছে। যেহেতু পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, তাই অক্সিজেন পরমাণুতে ৮টি ইলেকট্রনও রয়েছে।
গ. উদ্দীপকের ১ নং চিত্রের পরমাণুর গঠন বর্ণনা করো।
**উত্তর:** ১ নং চিত্রে একটি পরমাণুর মডেল দেখানো হয়েছে যার কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস এবং দুটি কক্ষপথে ইলেকট্রন ঘুরছে। প্রথম কক্ষপথে ২টি এবং দ্বিতীয় কক্ষপথে ৪টি ইলেকট্রন রয়েছে। এটি কার্বন (C) পরমাণুর গঠন। কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬, তাই এতে ৬টি প্রোটন ও ৬টি ইলেকট্রন রয়েছে।
ঘ. ১ ও ২ নং চিত্রের পরমাণুর সক্রিয়তার তুলনামূলক আলোচনা করো।
**উত্তর:** ১ নং চিত্রের পরমাণুটি হলো কার্বন (২, ৪) এবং ২ নং চিত্রের পরমাণুটি হলো নিয়ন (২, ৮)। নিয়ন পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথ পূর্ণ (৮টি ইলেকট্রন) থাকায় এটি অত্যন্ত স্থিতিশীল ও নিষ্ক্রিয়। অন্যদিকে কার্বন পরমাণুর শেষ কক্ষপথে ৪টি ইলেকট্রন থাকায় এটি স্থিতিশীল নয়। তাই কার্বন ইলেকট্রন গ্রহণ বা বর্জন বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে স্থিতিশীল হতে চায়। অর্থাৎ, কার্বন নিয়নের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়।
---
### স্লাইড ১১: নমুনা প্রশ্ন - সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
১. Na⁺ পরমাণু কেন ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** সোডিয়াম (Na) পরমাণুর শেষ কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন রয়েছে। এটি স্থিতিশীল হতে ওই ১টি ইলেকট্রন বর্জন করে। ইলেকট্রন বর্জনের ফলে প্রোটন সংখ্যা ইলেকট্রন সংখ্যা থেকে ১ বেশি হয়ে যায়। ফলে পরমাণুতে ধনাত্মক আধান সৃষ্টি হয়। তাই Na⁺ ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়।
২. হিলিয়াম পরমাণু নিষ্ক্রিয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** হিলিয়াম পরমাণুর প্রথম ও একমাত্র কক্ষপথে ২টি ইলেকট্রন রয়েছে। প্রথম কক্ষপথে সর্বোচ্চ ২টি ইলেকট্রন থাকতে পারে। যেহেতু হিলিয়ামের কক্ষপথটি পূর্ণ, তাই এটি অত্যন্ত স্থিতিশীল। কোনো ইলেকট্রন গ্রহণ বা বর্জনের প্রয়োজন হয় না। তাই হিলিয়াম নিষ্ক্রিয়।
৩. Cl⁻ পরমাণু কোন আয়নে পরিণত হয়? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** ক্লোরিন (Cl) পরমাণুর শেষ কক্ষপথে ৭টি ইলেকট্রন রয়েছে। এটি স্থিতিশীল হতে ১টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে। ইলেকট্রন গ্রহণের ফলে ইলেকট্রন সংখ্যা প্রোটন সংখ্যা থেকে ১ বেশি হয়ে যায়। ফলে পরমাণুতে ঋণাত্মক আধান সৃষ্টি হয়। তাই Cl⁻ ঋণাত্মক আয়নে (অ্যানায়ন) পরিণত হয়।