Creator prompt
The idea behind this presentation
নিচে ছবিগুলোতে থাকা পাঠ্যবইয়ের (দ্বিতীয় অধ্যায়: জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি) বিষয়বস্তু অনুযায়ী স্লাইডের কন্টেন্ট তৈরি করা হলো। ছবির টেক্সট হুবহু রাখা হয়েছে এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর স্লাইডের ভেতরেই যুক্ত করা হয়েছে। স্লাইডগুলোকে বইভিত্তিক (Bookish) ও তথ্যসমৃদ্ধ (Informative) করতে প্রয়োজনীয় ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনাও দেওয়া হলো।
---
### স্লাইড ১: অধ্যায়ের শিরোনাম ও ভূমিকা
**দ্বিতীয় অধ্যায়**
**জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি**
প্রতিটি জীবের দেহ কোষ দিয়ে গঠিত। এককোষী জীবগুলো কোষ বিভাজনের দ্বারা একটি থেকে দুইটি, দুই থেকে চারটি কোষে বিভক্ত হয় এবং এভাবে বংশবৃদ্ধি করে। বহুকোষী জীবের দেহকোষের সংখ্যা বৃদ্ধি হয় এবং জীবদেহের সাংগঠনিক বৃদ্ধি ঘটে। নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, জীবদেহে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি ঘটে। জীবের বংশগতির ধারা রক্ষায় কোষ বিভাজনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
**এ অধ্যায় শেষে আমরা—**
* কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করতে পারব;
* কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহের বৃদ্ধি ব্যাখ্যা করতে পারব;
* জীবের বংশগতির ধারা রক্ষায় কোষ বিভাজনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডের বাম দিকে একটি কোষের সাধারণ চিত্র (নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম, সেল মেমব্রেন) এবং ডান দিকে কোষ বিভাজনের একটি ধারণামূলক ছবি (একটি কোষ থেকে দুটি কোষে পরিণত হওয়া) দিন।
---
### স্লাইড ২: কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ ও অ্যামাইটোসিস (পাঠ ১)
জীবদেহে তিন ধরনের কোষ বিভাজন দেখা যায়, যথা- (১) অ্যামাইটোসিস (২) মাইটোসিস এবং (৩) মায়োসিস।
**অ্যামাইটোসিস:** এ ধরনের কোষ বিভাজন ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, অ্যামিবা ইত্যাদি আদিকোষী ও এককোষী জীবে হয়। এককোষী জীবগুলো অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে বংশবৃদ্ধি করে। এ ধরনের কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াসটি দেহের আকার ধারণ করে এবং প্রায় মাঝ বরাবর সংকুচিত হয় ও পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুইটি অপর কোষে পরিণত হয়। একই সময়ে সাইটোপ্লাজমও মাঝ বরাবর সংকুচিত হয়ে দুইটি কোষে পরিণত হয়। এ ধরনের বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। তাই একে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলে।
**কাজ: কোষ বিভাজন পর্যবেক্ষণ**
পেঁয়াজের মূলে কোষ বিভাজন দেখা যায়। পেঁয়াজের গোড়া কেটে পানি ভর্তি বোতলে ডুবিয়ে রাখলে কয়েকদিন পর নতুন মূল গজায়। ওই মূলের ডগা কেটে স্লাইডে নিয়ে মাইক্রোস্কোপের নিচে পর্যবেক্ষণ করলে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের বিভিন্ন ধাপ দেখা যায়।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ার ধাপগুলো (চিত্র ২.১) ছবি আকারে দেখান। পাশে পেঁয়াজের মূল থেকে স্লাইড তৈরি ও মাইক্রোস্কোপে দেখার একটি সচিত্র নির্দেশনা দিন।
---
### স্লাইড ৩: মাইটোসিস কোষ বিভাজন (পাঠ ২)
মাইটোসিস বিভাজনটি দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে নিউক্লিয়াসের এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন হয়। নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস এবং সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে। মাইটোসিস কোষ বিভাজন একটি ধারাবাহিক পদ্ধতি। প্রথমে ক্যারিওকাইনেসিস শুরু হয়। ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিস শুরু হওয়ার আগে কোষটি নিউক্লিয়াসে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ করে থাকে। কোষের এ অবস্থাকে ইন্টারফেজ বলে।
**ক্যারিওকাইনেসিস:** বিভাজিত কোষে নিউক্লিয়াসের একটি জটিল পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যারিওকাইনেসিস সম্পন্ন হয়। পরিবর্তনগুলো ধারাবাহিকভাবে ঘটে। বোঝার সুবিধার্থে এ পর্যায়টিকে পাঁচটি ধাপে ভক্ত করা হয়েছে। ধাপগুলো- ১. প্রোফেজ, ২. প্রো-মেটাফেজ, ৩. মেটাফেজ, ৪. অ্যানাফেজ ও ৫. টেলোফেজ।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজের ধাপগুলো (চিত্র ২.৩) পাশাপাশি সাজিয়ে দিন। প্রতিটি ধাপের নিচে সংক্ষিপ্ত নাম লিখুন।
---
### স্লাইড ৪: ক্যারিওকাইনেসিসের ধাপসমূহ (পাঠ ৩)
**প্রো-মেটাফেজ:** এ ধাপটি স্বল্পস্থায়ী। এ ধাপে-
১. নিউক্লিয়ার পর্দা ও নিউক্লিওলাস প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।
২. ক্রোমোজোমের উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত তত্ত্বগুলো তন্তু দ্বারা আবির্ভূত হয়। এগুলোকে মাকু তন্তু বলে। মাকু তন্তুর মাধ্যমেকে বিভুজ্য অঞ্চল বলে।
৩. প্রাণিকোষে সেন্ট্রিওল দুটি চারদিকে থেকে বিচ্ছুরিত রশ্মির মতো অ্যাস্টার রশ্মির আবির্ভাব ঘটে এবং কোষের দুই বিপরীত মেরুতে পৌঁছাতে স্পিন্ডল তন্তু গঠন করে। তন্তুগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে স্পিন্ডল যন্ত্র গঠন করে।
স্পিন্ডল যন্ত্রের প্রত্যেকটি তন্তুকে স্পিন্ডল তন্তু বলে। এদের থেকে যে তন্তুগুলো ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত হয় তাদেরকে ট্রাকশন ফাইবার বা আকর্ষণ তন্তু বলে।
**মেটাফেজ:** এ ধাপে-
১. ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে আসে এবং সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে তন্তু দিয়ে আটকে থাকে।
২. এ ধাপে ক্রোমোজোমগুলো সবচেয়ে খাটো ও মোটা দেখায়।
**অ্যানাফেজ:** এ ধাপে-
১. প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে প্রত্যেক ক্রোমাটিডে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
২. ক্রোমাটিডগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে।
৩. এরপর ক্রোমোজোমগুলোর সাথে যুক্ত আকর্ষণ তন্তুগুলোর সংকোচনের ফলে অপত্য ক্রোমোজোমের অর্ধেক উত্তর মেরুর দিকে এবং অর্ধেক দক্ষিণ মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি বর্ণমালার V, L, J অথবা I আকারে বিচিত্র হয়।
**টেলোফেজ:** এ ধাপে-
১. অপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিপরীত মেরুতে এসে পৌঁছায়।
২. এরপর উভয় মেরুর ক্রোমোজোমগুলোকে ঘিরে নিউক্লিয়ার পর্দা এবং নিউক্লিওলাসের পুনরায় আবির্ভাব ঘটে। প্লাজমালেমার উত্তর ও দক্ষিণ মেরু থেকে চারদিক থেকে সংকুচিত হয়ে নিউক্লিয়াসের রেটিকুলাম গঠন করে। এভাবে কোষের দুই মেরুতে দুইটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয় এবং ক্যারিওকাইনেসিসের সমাপ্তি ঘটে।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজের সচিত্র বর্ণনা (চিত্র ২.৫, ২.৬, ২.৭) দিন। V, L, J, I আকারের ক্রোমোজোমের চিত্র ছোট করে পাশে বসান।
---
### স্লাইড ৫: সাইটোকাইনেসিস ও মায়োসিস (পাঠ ৪ ও ৫)
**সাইটোকাইনেসিস:** নিউক্লিয়াসের বিভাজন শেষ হওয়ার সাথে সাথে সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়। প্রকৃতপক্ষে টেলোফেজ দশাতেই সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়। টেলোফেজ ধাপের শেষে বিষুবীয় তলে এ্যাপ্লাজমিক জালিকার সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম অংশগুলো জমা হয় এবং পরে এর মিলিত হয়ে কোষপর্দা গঠন করে। কোষপর্দা পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়ে কোষপ্রাচীরের গঠন করে। ফলে একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
প্রাণিকোষের ক্ষেত্রে নিউক্লিয়াসের বিভাজনের সাথে সাথে কোষের মাঝামাঝি অংশে কোষপর্দার উভয় পাশে একটি খাঁজ সৃষ্টি হয়। কোষপর্দার এ খাঁজ ক্রমশ ভিতরের দিকে গিয়ে নিবিড়ভাবে তল বরাবর বিস্তৃত হয় এবং মিলিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। তাহলে আমরা জানতে পারলাম উদ্ভিদ কোষের কোষপ্রাচীর গঠিত হয় এবং প্রাণিকোষে খাঁজের বা ফারাওয়িং পদ্ধতিতে সাইটোকাইনেসিস ঘটে।
**মায়োসিস (Meiosis):** এ অধ্যায়ের শুরুতেই জেনেছি মায়োসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মায়োসিস কেন হয়? মায়োসিস কোষ বিভাজনে অপত্য কোষগুলোর ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। বৃদ্ধি ও অযৌন জননের জন্য মায়োসিস কোষ বিভাজন অপরিহার্য। যৌন জননে পুং ও স্ত্রী জনন কোষের মিলনের প্রয়োজন পড়ে। যদি জননকোষগুলোর ক্রোমোজোম সংখ্যা দেহকোষের সমান থেকে যায় তাহলে জাইগোটে কোষে জীবের ক্রোমোজোম দেহকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার দ্বিগুণ হয়ে যাবে। মায়োসিস কোষ বিভাজনে জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। ফলে দুটি জননকোষ একত্রিত হয়ে যে জাইগোট গঠন করে তার ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যার অনুযায়ী থাকে। এতে নির্দিষ্ট প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবতা বজায় থাকে।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে সাইটোকাইনেসিসের চিত্র (প্রাণিকোষ ও উদ্ভিদকোষের পার্থক্য) এবং মায়োসিসের সামগ্রিক চিত্র (চিত্র ২.৮) দিন।
---
### স্লাইড ৬: মায়োসিসের বৈশিষ্ট্য ও ধাপ (পাঠ ৬)
**মায়োসিসের বৈশিষ্ট্য:**
১. ডিপ্লয়েড জীবের জনন মাতৃকোষে ও হ্যাপ্লয়েড জীবের জাইগোটে মায়োসিস ঘটে।
২. এ ধরনের কোষ বিভাজনে একটি কোষ থেকে চারটি কোষের সৃষ্টি হয়।
৩. ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয় এবং নিউক্লিয়াস দুই বার বিভক্ত হয়।
৪. সৃষ্ট চারটি কোষের নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃ নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়।
**মায়োসিস কোষ বিভাজন:** মায়োসিস কোষ বিভাজনের সময় একটি জনন মাতৃকোষ পরপর দুই ধাপে বিভাজিত হয়। প্রথম বিভাজনকে মায়োসিস-১ এবং দ্বিতীয় বিভাজনকে মায়োসিস-২ বলা হয়। প্রথম বিভাজনের সময় সৃষ্টি দুইটি অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়। দ্বিতীয় বিভাজনটি মাইটোসিস বিভাজনের অনুরূপ। অর্থাৎ প্রথম বিভাজনে উৎপন্ন প্রতিটি কোষ পুনরায় বিভাজিত হয়ে দুইটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান হয়। ফলে একটি জনন মাতৃকোষ (2n) থেকে চারটি অপত্যকোষ (n) সৃষ্টি হয়।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** মায়োসিস-১ এবং মায়োসিস-২ এর ধাপগুলো (চিত্র ২.১০) একটি ফ্লোচার্ট আকারে স্লাইডে উপস্থাপন করুন।
---
### স্লাইড ৭: বংশগতি নির্ধারণে ক্রোমোজোম, DNA এবং RNA এর ভূমিকা (পাঠ ৭-৯)
মা ও বাবার কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য সন্তানসন্ততিতে পাওয়া যায়। মাতাপিতার বৈশিষ্ট্য যে প্রক্রিয়ায় সন্তানসন্ততিতে সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি বলে। আবার সন্তানরা পিতামাতার যেসব বৈশিষ্ট্য পায়, সেগুলোকে বলে বংশগত বৈশিষ্ট্য। বংশগতি সম্বন্ধে এক সময় মানুষের ধারণা ছিল কল্পনিক। পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন কীভাবে পিতামাতার বৈশিষ্ট্য তার সন্তানসন্ততিতে সঞ্চারিত হয়। উনিশ শতাব্দীর বিদ্যার্থীদিগের ধারা সম্বন্ধে সঠিক ধারণা দেন গ্রেগর জোহান মেন্ডেল। বর্তমানে বংশগতি সম্বন্ধে আধুনিক যে তত্ত্ব প্রচলিত আছে, তা মেন্ডেলের আবিষ্কৃত তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য জোহান মেন্ডেলকে বংশগতির জনক বলা হয়।
নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নির্দিষ্ট সংখ্যক সুতার মতো যে অঙ্গগুলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে, তাদের ক্রোমোজোম বলে। ক্রোমোজোমের গঠন ও আকার সম্পর্কে আমরা ধারণা পাই, তা প্রধানত মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ ধাপে সৃষ্টি ক্রোমোজোম থেকে পাই। প্রতিটি ক্রোমোজোমে প্রধান দুটি অংশ থাকে- ক্রোমাটিড ও সেন্ট্রোমিয়ার। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ ধাপে প্রত্যেকটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত হওয়ার পর যে দুটি সমান আকৃতির সুতার মতো অংশ গঠন করে, তাদের প্রত্যেকটিকে ক্রোমাটিড বলে। ক্রোমাটিড দুটি যে নির্দিষ্ট স্থানে পরস্পর যুক্ত থাকে তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।
**নিউক্লিয়িক এসিড:** নিউক্লিয়িক এসিড দুই ধরনের যথা- DNA (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) এবং RNA (রাইবো নিউক্লিক এসিড)। ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA। বংশগতি ধারা পরিবহনে ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA ও RNA এর গুরুত্ব অপরিসীম। সাধারণত ক্রোমোজোমের DNA অণুগুলোই জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং জীবদের বৈশিষ্ট্যগুলো পুনরায়ক্রমে বহন করে।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের ছবি, DNA ও RNA এর গঠনগত চিত্র এবং ক্রোমোজোমের লেবেলযুক্ত চিত্র (ক্রোমাটিড, সেন্ট্রোমিয়ার) দিন।
---
### স্লাইড ৮: বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) ও উত্তর
১. মাইটোসিস বিভাজনের কোন ধাপে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক খাটো ও মোটা হয়?
ক. প্রোফেজ খ. প্রো-মেটাফেজ গ. মেটাফেজ ঘ. অ্যানাফেজ
**উত্তর: গ. মেটাফেজ**
২. মানুষের চোখের রং নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
ক. DNA খ. RNA গ. নিউক্লিওলাস ঘ. সেন্ট্রোমিয়ার
**উত্তর: ক. DNA**
**নিচের উদ্দীপকের আলোকে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:**
অর্ব অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পিয়াজের পাতার কোষ পর্যবেক্ষণ করছিল। সে কোষ বিভাজনের একটি দশায় কোষের নিউক্লিয়াসে কোনো আবরণী ও নিউক্লিওলাস দেখতে পেল না, তবে ক্রোমোজোমগুলো কোষের ঠিক মাঝ বরাবর অবস্থান করতে দেখল।
৩. অর্ব কোষ বিভাজনের কোন দশাটি পর্যবেক্ষণ করেছিল?
ক. প্রোফেজ খ. প্রো-মেটাফেজ গ. মেটাফেজ ঘ. অ্যানাফেজ
**উত্তর: গ. মেটাফেজ**
৪. অর্ব এর পর্যবেক্ষণকৃত দশাটির পরবর্তী দশায়-
i. ক্রোমোজোমগুলো সেন্ট্রোমিয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন হবে
ii. ক্রোমাটিডগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে
iii. সেন্ট্রোমিয়ার দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ঘ. i, ii ও iii**
---
### স্লাইড ৯: সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
**১. ফারাবি স্যার বিজ্ঞান ক্লাসে কোষ বিভাজন সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তিনি বললেন, কোষ বিভাজনের একটি বিশেষ ধাপে নিউক্লিয়াসে অবস্থিত সুতার মতো অংশের সেন্ট্রোমিয়ার দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। ফলে বিভাজিত কোষে এর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।**
ক. মায়োসিস কাকে বলে?
**উত্তর:** যে কোষ বিভাজনে একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয় এবং অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলে।
খ. বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে কে? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** মায়োসিস কোষ বিভাজন বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। কারণ মায়োসিস বিভাজনের ফলে জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক (n) হয়ে যায়। পরে দুটি জননকোষ মিলিত হয়ে জাইগোট (2n) সৃষ্টি করে। এতে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবতা বজায় থাকে এবং বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ থাকে।
গ. ফারাবি স্যারের বর্ণিত বিশেষ ধাপটির সচিত্র বর্ণনা দাও।
**উত্তর:** ফারাবি স্যার যে ধাপটির কথা বলেছেন তা হলো অ্যানাফেজ। অ্যানাফেজ ধাপে প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে প্রত্যেক ক্রোমাটিডে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে। ক্রোমাটিডগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে। এরপর ক্রোমোজোমগুলোর সাথে যুক্ত আকর্ষণ তন্তুগুলোর সংকোচনের ফলে অপত্য ক্রোমোজোমের অর্ধেক উত্তর মেরুর দিকে এবং অর্ধেক দক্ষিণ মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
ঘ. ফারাবি স্যারের বর্ণিত সুতার মতো অংশটির ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
**উত্তর:** ফারাবি স্যারের বর্ণিত সুতার মতো অংশটি হলো ক্রোমোজোম। ক্রোমোজোমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বংশগতির ধারক ও বাহক। ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA। এই DNA-তে জীবের সকল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জিন আকারে সংরক্ষিত থাকে। কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম সঠিকভাবে বিভক্ত হয়ে অপত্য কোষে জিনগুলো বহন করে নিয়ে যায়। ফলে জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে।
**২. নিচের উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও: [চিত্র P, Q, R দেওয়া আছে]**
ক. ক্যারিওকাইনেসিস কাকে বলে?
**উত্তর:** কোষ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াসের যে জটিল পরিবর্তনের মাধ্যমে নিউক্লিয়াসের বিভাজন ঘটে, তাকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে।
খ. কোন বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** মায়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়। কারণ এই বিভাজনে একটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ থেকে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়। এ কারণে এটিকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।
গ. R কোষ বিভাজনটি ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** উদ্দীপকের R চিত্রটি হলো সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়া। নিউক্লিয়াসের বিভাজন শেষ হওয়ার সাথে সাথে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে। প্রাণিকোষের ক্ষেত্রে নিউক্লিয়াসের বিভাজনের সাথে সাথে কোষের মাঝামাঝি অংশে কোষপর্দার উভয় পাশে একটি খাঁজ সৃষ্টি হয়। কোষপর্দার এ খাঁজ ক্রমশ ভিতরের দিকে গিয়ে নিবিড়ভাবে তল বরাবর বিস্তৃত হয় এবং মিলিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।
ঘ. উন্নত জীবের P ও Q কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
**উত্তর:** উদ্দীপকের P হলো মায়োসিস এবং Q হলো মাইটোসিস।
**P (মায়োসিস):** এটি জনন মাতৃকোষে ঘটে। এতে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়। একটি কোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়। এটি যৌন জননে ভূমিকা রাখে এবং বংশগতির বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
**Q (মাইটোসিস):** এটি দেহকোষে ঘটে। এতে ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে। একটি কোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়। এটি জীবদেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণে ভূমিকা রাখে।
সুতরাং, P হ্রাসমূলক ও Q সমীকরণিক বিভাজন।
---
### স্লাইড ১০: সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
১. কোন কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়। কারণ এই বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে এবং অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান থাকে। তাই একে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়।
২. জীবদেহে ক্রোমোজোম এর স্থিতিশীলতা রক্ষা হয় কোন কোষ বিভাজনের মাধ্যমে? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহে ক্রোমোজোমের স্থিতিশীলতা রক্ষা হয়। মাইটোসিস বিভাজনে মাতৃকোষের ক্রোমোজোমগুলো replication হয়ে দুটি অপত্য কোষে সমানভাবে বণ্টিত হয়। ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে এবং জীবদেহে ক্রোমোজোমের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
৩. জনন মাতৃকোষে মায়োসিস না ঘটলে কী হবে? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** জনন মাতৃকোষে মায়োসিস না ঘটলে জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হবে না। ফলে পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে যে জাইগোট তৈরি হবে, তার ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এতে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবতা নষ্ট হবে এবং বংশগতির ভারসাম্য বিঘ্নিত হবে।
---
### স্লাইড ১১: সারসংক্ষেপ (What we learned)
**এ অধ্যায় শেষে যা শিখলাম—**
* জীবের বৃদ্ধি কোষ বিভাজনের মাধ্যমে ঘটে।
* কোষ বিভাজন কয় প্রকার এবং এগুলো কোথায় ঘটে।
* জীবে ক্রোমোজোম সংখ্যা কীভাবে ধ্রুবক থাকে।
* হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড বলতে কী বোঝায়।
* বংশগতির ধারক জিন এবং বংশগতির জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল।
* মায়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং ক্রোমোজোমের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বংশগতির ধারা রক্ষিত হয়।
**নতুন শব্দ:** অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস, মায়োসিস, হ্যাপ্লয়েড, ডিপ্লয়েড, স্পিন্ডল তন্তু, সাইটোকাইনেসিস, DNA, RNA, অপত্য কোষ, জাইগোট।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডের শেষে একটি সারসংক্ষেপ চার্ট দিন যেখানে মাইটোসিস ও মায়োসিসের মধ্যে পার্থক্য (সংখ্যা, প্রকৃতি, স্থান) একটি টেবিল আকারে দেখানো হয়েছে।