Creator prompt
The idea behind this presentation
নিচে ছবিগুলোতে থাকা পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু (অষ্টম অধ্যায়: রাসায়নিক বিক্রিয়া) অনুযায়ী স্লাইডের কন্টেন্ট তৈরি করা হলো। ছবির টেক্সট হুবহু রাখা হয়েছে এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর স্লাইডের ভেতরেই যুক্ত করা হয়েছে। সাথে স্লাইড ভিজ্যুয়ালাইজ করার জন্য ছবি ও সিম্বল বসানোর নির্দেশনাও দেওয়া হলো।
---
### স্লাইড ১: অধ্যায়ের শিরোনাম
**অষ্টম অধ্যায়**
**রাসায়নিক বিক্রিয়া**
আমাদের চারপাশে নানা রকমের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে আছে। এই সমস্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া কখনো শক্তি উৎপন্ন করে, কখনো ব্যবহারের উপযোগী নতুন পদার্থ তৈরি করে আবার কখনো বা রোগ নিরাময়েও সাহায্য করে।
**এ অধ্যায় শেষে আমরা—**
* বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব;
* রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকারের শক্তির রূপান্তর ব্যাখ্যা করতে পারব;
* শুষ্ক কোষের শক্তির রূপান্তর ব্যাখ্যা করতে পারব;
* তড়িৎ বিশ্লেষণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
* পরীক্ষণ কাজে রাসায়নিক পদার্থ এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির ব্যবহার সঠিকভাবে করতে পারব;
* আমাদের জীবনে রাসায়নিক বিক্রিয়ার অবদান উপলব্ধি করতে পারব।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডের বাম দিকে একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ছবি দিন (যেমন: টেস্টটিউবে বিক্রিয়া ঘটছে বা বাতি জ্বালানো হচ্ছে)। ডান দিকে বুলেট পয়েন্টগুলো দিন।
---
### স্লাইড ২: প্রতীক, সংকেত ও যোজনী (পাঠ ১ ও ২)
সপ্তম শ্রেণিতে তোমরা প্রতীক ও সংকেত সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছ। রাসায়নিকদিগগণ গঠন অনুসারে পৃথিবীর সকল পদার্থকে মৌলিক ও যৌগিক এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। এ পর্যন্ত মোট ১১৮টি মৌলিক পদার্থের কথা জানা গেছে। সাধারণত মৌলের পুরো নাম না লিখে ইংরেজি বা ল্যাটিন নামের একটি বা দুইটি অক্ষর দিয়ে সংক্ষেপে মৌলটিকে প্রকাশ করা হয়। যেমন- H (হাইড্রোজেন), O (অক্সিজেন), Ca (ক্যালসিয়াম) ইত্যাদি।
আবার কোনো মৌল বা যৌগের অণুর সংক্ষিপ্তরূপকে সংকেত বলা হয়। যেমন- হাইড্রোজেন অণুর সংকেত H₂, অক্সিজেন অণুর সংকেত O₂, হাইড্রোজেন ক্লোরাইড অণুর সংকেত HCl ইত্যাদি।
মৌলের সংকেত লেখার সময় আমাদেরকে মৌলের যোজনী সংখ্যা সম্পর্কে ভাবতে হবে। মৌলের যোজনীর সংখ্যা অনুযায়ী মৌলগুলো একে অন্যের সাথে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে। মৌলিক পদার্থের যোজনীকে আমরা একটি হাতের সাদৃশ্য তুলনা করতে পারি। যে মৌলের একটি হাত তার যোজনী হবে ১। হাইড্রোজেন এবং ক্লোরিন উভয়ই একহাত বিশিষ্ট মৌল। অর্থাৎ উভয়ের যোজনী ১। তাই হাইড্রোজেন ক্লোরাইডের সংকেত হবে HCl। অক্সিজেনের যোজনী ২ অর্থাৎ অক্সিজেনের ১টি পরমাণুর ২টি হাত আছে। এ ২টি হাত দিয়ে অক্সিজেন একযোজী বা ১ হাত বিশিষ্ট ২টি হাইড্রোজেনের পরমাণুকে ধরে রাখতে পারে। এ কারণে পানির সংকেত H₂O।
নাইট্রোজেন ও কার্বনের যোজনী যথাক্রমে ৩ এবং ৪। ফলে অ্যামোনিয়ার সংকেত NH₃ এবং মিথেনের সংকেত CH₄।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডের ডানদিকে HCl, H₂O, NH₃, CH₄ এর গঠনগত সংকেত (Structural Formula) ছবি আকারে দিন।
---
### স্লাইড ৩: ক্যাটায়ন মৌল ও যৌগমূলকের যোজনী (পাঠ ৩ ও ৪)
**রাসায়নিক সমীকরণ (Chemical Equation)**
যেকোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিবরণ দিতে হলে আমাদের রাসায়নিক সমীকরণ সম্পর্কে ধারণা থাকা অপরিহার্য। একটি রাসায়নিক বিক্রিয়াকে দুইটি অংশে ভাগ করা যায়। এক অংশে বিক্রিয়ক পদার্থ এবং অন্য অংশে বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন নতুন পদার্থ থাকে।
বিক্রিয়ক পদার্থ হলো রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটনের পূর্বাবস্থা এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থ হলো রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটনের শেষ বা পরবর্তী অবস্থা।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী বিক্রিয়কদ্বয় এবং উৎপন্ন দ্রব্যের প্রতীক, সংকেত ও তত্ত্বগুলো চিহ্নের (+, →, =) সাহায্যে সংক্ষেপে প্রকাশ করাকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে।
**যেমন:**
Zn + H₂SO₄ → ZnSO₄ + H₂
(জিংক + সালফিউরিক এসিড → জিংক সালফেট + হাইড্রোজেন)
**রাসায়নিক সমীকরণ লেখার নিয়ম:**
(১) রাসায়নিক সমীকরণে বিক্রিয়ক পদার্থ বা পদার্থগুলোকে সম প্রতীক বা সংকেত সমীকরণের বাম দিকে লিখতে হয়। বিক্রিয়াজাত পদার্থ বা পদার্থগুলোকে সম প্রতীক বা সংকেত সমীকরণের ডান দিকে লিখতে হয়।
(২) বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থ একাধিক হলে তাদের সংকেতের মাঝে যোগ চিহ্ন (+) দেওয়া হয়।
(৩) কোনো পদার্থের অণুর সংখ্যা একাধিক হলে অণুর সংকেতের আগে সেই সংখ্যা লিখতে হয়। তবে এক্ষেত্রে উৎপাদকের পরমাণুর সমতাকরণ প্রয়োজন।
(৪) বিক্রিয়ার আগে বিভিন্ন পদার্থের অণুর মধ্য যত সংখ্যক বিভিন্ন মৌলের পরমাণু থাকবে, বিক্রিয়ার পরে গঠিত নতুন অণুগুলোতে মোট ঠিক তত সংখ্যক বিভিন্ন মৌলের পরমাণু থাকতে হবে।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডের মাঝখানে "ক্যাটায়ন মৌল ও যৌগমূলকের যোজনী" টেবিলটি (অধ্যায় ৬ এর ছবি) বসান। নিচে সমীকরণের নিয়মগুলো বুলেট পয়েন্টে দিন।
---
### স্লাইড ৪: পূর্ণতার সূত্র (Balancing) ও সংযোজন বিক্রিয়া (Addition Reaction)
**পাঠ ৫: রাসায়নিক বিক্রিয়া; সংযোজন (Addition)**
কিন্তু বিক্রিয়ার আগে যত সংখ্যক H পরমাণু এবং O পরমাণু আছে, বিক্রিয়ার পরেও বিক্রিয়াজাত পদার্থে তত সংখ্যক H এবং O পরমাণু থাকা উচিত। তাই বিক্রিয়ার সমতা স্থাপনের জন্য H₂ অণু, O₂ অণু ও H₂O অণুর সংখ্যা এবং সমীকরণ হতে হবে নিম্নরূপ-
2H₂ + O₂ = 2H₂O
এই সমীকরণ থেকে বিক্রিয়ার পূর্বে এবং বিক্রিয়ার পরে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মোট পরমাণুর সংখ্যা গণনা করা যায়। বোঝার সুবিধার্থে উপরের সমীকরণটিকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হলো-
2H₂ + 1O₂ = 2H₂O
(2×2) + (1×2) = 2 × (2+1)
বা, 4 + 2 = 2 × 3
বা, 6 = 6
সুতরাং উপরের সমীকরণে বিক্রিয়ার আগের পরমাণুর সংখ্যা এবং বিক্রিয়ার পরের পরমাণুর সংখ্যা সমান।
**কাজ: সংযোজন বিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা**
**প্রয়োজনীয় উপকরণ:** টেস্টটিউব, মর্টার, স্পিরিট ল্যাম্প বা বার্নার, লোহার গুঁড়া, সালফার, নিক্তি।
**পদ্ধতি:** টেস্টটিউবটি ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নাও। ৭ গ্রাম লোহার গুঁড়া ও ৪ গ্রাম সালফার (সমানুপাতিক হারে নিদিষ্ট পরিমাণে নেওয়া যায়) নিক্তি দিয়ে মেপে মর্টারে নাও ও খুব ভালোভাবে পিষে নাও। এরপর শুকনা টেস্টটিউবে ঢেলে দাও। এবার স্পিরিট ল্যাম্প বা বার্নার দিয়ে টেস্টটিউবের তলায় তাপ দিতে থাকো। তাপ দেওয়ার সময় খেয়াল রাখো যেন আগুনে শিখা চোখে না লাগে। তাপ দিতে দিতে টেস্টটিউবের মিশ্রণটি যখন লালচে লাল রক্তিমাভাব ধারণ করে তখন তাপ দেওয়া বন্ধ করো। টেস্টটিউবটি মোচড়িয়ে উল্টো করে রাখো, যেন এটি ভেঙে গেলে টেস্টটিউবের ভিতরের বস্তু নিচে না পড়ে যায়। অতঃপর টেস্টটিউবটি ঠান্ডা করে ভেঙে ভিতরের কঠিনটিকে আলাদা করো।
টেস্টটিউব থেকে যে বস্তুটি পেলে তা দেখতে গাঢ় ধূসর বর্ণের। তোমরা এতে হালকা হালুদ রঙের সালফার বা গন্ধর (আর্সেনিক) গন্ধ পাচ্ছো। কারণ এখানে আয়রন ও সালফারের একে অপরের সাথে মিলে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নতুন পদার্থ ফেরাস সালফাইড তৈরি করেছে।
Fe + S → FeS
(আয়রন + সালফার → ফেরাস সালফাইড)
এরূপ রাসায়নিক পরিবর্তন, যেখানে একাধিক পদার্থ একত্রিত হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নতুন একটি রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে, তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে। এভাবেই জিংক ও সালফারের বিক্রিয়ায় জিংক সালফাইড তৈরি হয়।
Zn + S → ZnS
(জিংক + সালফার → জিংক সালফাইড)
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডের বাম দিকে Fe + S → FeS এর চিত্র দিন। ডান দিকে Zn + S → ZnS এর চিত্র দিন।
---
### স্লাইড ৫: দহন বিক্রিয়া (Combustion Reaction)
**পাঠ ৬ ও ৭: দহন বিক্রিয়া (Combustion reaction)**
**কাজ: সালফার ও অক্সিজেনের দহন বিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ**
**প্রয়োজনীয় উপকরণ:** একটি লম্বা হাতলযুক্ত দহন চামচ, কিছু সালফার, স্পিরিট ল্যাম্প বা বার্নার।
**পদ্ধতি:** তোমরা দহন চামচে কিছু সালফার নাও। স্পিরিট ল্যাম্প বা বার্নার দিয়ে চামচটিতে তাপ দিতে থাকো। কী দেখতে পাচ্ছো?
প্রথমে সালফার গলে গেল তারপর নীল আগুনের শিখা দেখতে পাচ্ছ এবং ঝাঁঝালো গন্ধ পেয়েছো। কারণ তাপ দেওয়ার ফলে সালফার বাতাসের অক্সিজেনের সাহায্যে দহন বিক্রিয়ার মাধ্যমে সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস তৈরি করেছে যা জ্বালাময়ী বাঁশের মতো গন্ধ ছড়ায়।
S + O₂ → SO₂
(সালফার + অক্সিজেন → সালফার ডাইঅক্সাইড)
**কাজ: ম্যাগনেসিয়াম ও অক্সিজেনের দহন বিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ**
**প্রয়োজনীয় উপকরণ:** ম্যাগনেসিয়াম রিবন, চিমটা, লাইটার, স্পিরিট ল্যাম্প/বুনসেন বার্নার।
**পদ্ধতি:** ম্যাগনেসিয়াম রিবনের একটি ছোট্ট টুকরো (৮ সেন্টিমিটার) একমাথা চিমটা দিয়ে ধরে রাখো। চোখে নিরাপত্তা চশমা পরে নাও। রিবনের অন্য মাথাটি বুনসেন বার্নারের শিখার উপর ধরো। লাইটার দিয়েও এটি করা যায়। খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করো কী ঘটছে?
রিবন আগুন ধরে গেলে এর উত্তপ্ত প্রজ্বলিত শিখাসহ জ্বলতে লাগল। এর কারণ হলো ম্যাগনেসিয়াম বাতাসের অক্সিজেনের দহন বিক্রিয়ার মাধ্যমে পুড়তে থাকে আর তোমরা প্রজ্বলিত শিখা দেখতে পাও। এভাবে যখন সমস্ত ম্যাগনেসিয়াম পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তখন আমাদের আশপাশে সাদা ধোঁয়া ও ধাতব গন্ধ পাওয়া যায়। শেষে দেখবে সাদা গুঁড়ো ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড।
2Mg + O₂ → 2MgO
(ম্যাগনেসিয়াম + অক্সিজেন → ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড)
**কাজ: মোমবাতির দহন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা**
**প্রয়োজনীয় উপকরণ:** মোমবাতি, দিয়াশলাই।
**পদ্ধতি:** দিয়াশলাই দিয়ে মোমবাতি জ্বালাও। খুঁটে ভালোভাবে খেয়াল করো কী ঘটছে? সময়ের সাথে সাথে মোমবাতির আকার ছোটো হয়ে যাচ্ছে। বলতে এর কারণ কী? মোমবাতি জ্বালানোর ফলে উৎপন্ন তাপে মোম গলে যায়। এই গলিত মোমের ছোট একটি অংশ ঠান্ডা হয়ে মোমের গায়ে লেগে পড়ে কিন্তু বেশিরভাগ অংশই বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। এর ফলে তাপ ও আলোকশক্তি উৎপন্ন হচ্ছে।
বিক্রিয়াটি হলো:
CaCO₃ → CaO + CO₂
(ক্যালসিয়াম কার্বনেট → ক্যালসিয়াম অক্সাইড + কার্বন ডাইঅক্সাইড)
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে ম্যাগনেসিয়াম জ্বালানোর ছবি এবং মোমবাতি জ্বালানোর ছবি যোগ করুন।
---
### স্লাইড ৬: প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (Substitution or Displacement Reaction)
**পাঠ ৮ ও ৯: প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (Substitution or displacement reaction)**
**কাজ: লোহা ও তুঁতের বিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ**
**প্রয়োজনীয় উপকরণ:** লোহার গুঁড়া, তুঁতে, পানি, টেস্টটিউব।
**পদ্ধতি:** টেস্টটিউবের চার ভাগের এক ভাগ পানি নাও। কিছু তুঁতে যোগ করে ভালোভাবে নাড়তে থাকো। দ্রবণ তৈরি করে। এবার তুঁতের নীল দ্রবণে কিছু লোহার গুঁড়া যোগ করো ভালোভাবে নাড়াও। কিছুক্ষণ পরবর্তী পরিবর্তন দেখতে পাও কী? দ্রবণের নীল রং আস্তে আস্তে হালকা সবুজ হয়ে যাচ্ছে। কারণ তোমার ছোট্ট টেস্টটিউবের ভিতরে জমতে শুরু করেছে। নীল দ্রবণ কেন হালকা সবুজ হলো?
এখানে লোহার গুঁড়া (আয়রন) ও কপার সালফেটের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়েছে। ফলে ফেরাস সালফেট ও কপার তৈরি হয়েছে। উৎপন্ন ফেরাস সালফেটের রং হালকা সবুজ বর্ণের। তাই দ্রবণের রং নীল থেকে হালকা সবুজ হয়েছে।
Fe + CuSO₄ → FeSO₄ + Cu
(আয়রন (লোহা) + কপার সালফেট → ফেরাস সালফেট + কপার)
এখানে লোহা, কপার সালফেট থেকে কপারকে সরিয়ে নিয়ে এসে ধাতুকে কপার সালফেট তৈরি করেছে। এ সকল বিক্রিয়ায় যেখানে একটি মৌল কোনো যৌগ থেকে অন্য একটি মৌলকে সরিয়ে নিয়ে এসে স্থান দখল করে নতুন যৌগ তৈরি করে, তাকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে।
**বিয়োজন বিক্রিয়া (Decomposition reaction)**
**কাজ: চুনা পাথরের বিয়োজন বিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ**
**প্রয়োজনীয় উপকরণ:** চুনা পাথর, স্পিরিট ল্যাম্প, বুনসেন বার্নার বা স্পিরিট ল্যাম্প, টেস্টটিউব, নিক্তি, কাচের নল।
**পদ্ধতি:** হাতেমাজা পর টেস্টটিউবে চুনা পাথর দিয়ে ৫ গ্রাম চুনাপাথর টেস্টটিউবে নাও। এরপর স্পিরিট ল্যাম্প বা বুনসেন বার্নারের শিখা দিয়ে তাপ দিতে থাকো। খুব ভালোভাবে খেয়াল করো কী ঘটছে।
কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে টেস্টটিউবে নেওয়া চুনাপাথর তাপ দেওয়ার ফলে বিয়োজিত হয়ে বের হয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ও ক্যালসিয়াম অক্সাইড উৎপন্ন হচ্ছে।
CaCO₃ → CaO + CO₂
(ক্যালসিয়াম কার্বনেট → ক্যালসিয়াম অক্সাইড + কার্বন ডাইঅক্সাইড)
গ্যাসীয় কার্বন ডাইঅক্সাইড চুনা পরীক্ষা করে দেখতে পারো। অপর একটি টেস্টটিউবে ১-২ মিলিলিটার স্বচ্ছ চুনের পানি নিয়ে একটি নির্দিষ্ট নল প্রথম টেস্টটিউবের সাথে লাগাও। দেখবে চুনের পানি ঘোলা হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড দ্বিতীয় টেস্টটিউবে (নির্দিষ্ট নলের মাধ্যমে) যাওয়ার ফলে সেখানে চুনের পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বিক্রিয়া করে আবার ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি হওয়ায় চুনের পানি ঘোলা হয়ে যাচ্ছে।
CO₂ + Ca(OH)₂ → CaCO₃ + H₂O
(কার্বন ডাইঅক্সাইড + ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড → ক্যালসিয়াম কার্বনেট + পানি)
নিচে বিয়োজন বিক্রিয়ার আরও কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো।
কপার কার্বনেটকে তাপ দিলে তা ভেঙে কপার অক্সাইড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়।
CuCO₃ → CuO + CO₂
(কপার কার্বনেট → কপার অক্সাইড + কার্বন ডাইঅক্সাইড)
পটাশিয়াম ক্লোরেটকে তাপ দিলে এটি বিয়োজিত হয়ে পটাশিয়াম ক্লোরাইড ও অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।
2KClO₃ → 2KCl + 3O₂
(পটাশিয়াম ক্লোরেট → পটাশিয়াম ক্লোরাইড + অক্সিজেন)
এসকল বিক্রিয়ার মতো যে সকল বিক্রিয়ায় একটি যৌগ ভেঙে একাধিক মৌল বা যৌগ উৎপন্ন হয় তাদেরকে বিয়োজন বিক্রিয়া বলে।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে লোহার গুঁড়া ও কপার সালফেট দ্রবণের বিক্রিয়ার চিত্র এবং চুনাপাথর তাপ দেওয়ার চিত্র যোগ করুন।
---
### স্লাইড ৭: প্রশমন বিক্রিয়া (Neutralization Reaction)
**পাঠ ১০ ও ১১: রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপশক্তির রূপান্তর**
তোমরা মোম জ্বালালে কী ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় তা জেনেছ। এবার বলতে এখানে কোনো ধরনের শক্তির রূপান্তর ঘটছে কি? জুলফু মেমোর কাঠাইল হাত নিয়ে হাতে গরম লাগে। আবার অন্ধকারে মোম জ্বালালে আমরা এর আশপাশে দেখতে পাই। তাহলে একথা বলা যায় যে, মোম জ্বালানোর ফলে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় বলেই হাতে গরম লাগে আর আলোক শক্তি উৎপন্ন হয় বলেই অন্ধকারে মোম জ্বালালে আমরা এর আশপাশের জিনিস দেখতে পাই। মোম একটি রাসায়নিক বস্তু। একে পোড়ালে এতে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি পরিবর্তিত হয়ে তাপশক্তি ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। একইভাবে গ্যাসের চুলায় গ্যাস জ্বালালেও গ্যাসে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি পরিবর্তিত হয়ে প্রচুর তাপশক্তি ও আলোক শক্তি উৎপন্ন করে। উৎপন্ন তাপশক্তি দিয়ে আমরা রান্নাবান্নার কাজ করি।
**কাজ: খাবার সোডা ও লেবুর রসের বিক্রিয়া**
**প্রয়োজনীয় উপকরণ:** খাবার সোডা বা বেকিং সোডা, টেস্টটিউব, লেবুর রস, ড্রপার।
**পদ্ধতি:** টেস্টটিউবে কিছু খাবার সোডা নাও। ড্রপার দিয়ে আস্তে আস্তে লেবুর রস টেস্টটিউবে যোগ করা। কী দেখতে পাচ্ছো? গ্যাসের বুদবুদ উঠছে? হ্যাঁ, গ্লাসে গ্যাসের বুদবুদ উঠছে। টেস্টটিউবের তলায় স্পর্শ করে দেখো হাতে ঠান্ডা লাগে কি?
লেবুর রসে থাকে পচুর সাইট্রিক এসিড যা বেকিং সোডার সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম সাইট্রেট, কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ও পানি তৈরি করে। আমরা যে বুদবুদ দেখি তা কার্বন ডাইঅক্সাইড ছাড়া আর কিছুই নয়।
বেকিং সোডা + সাইট্রিক এসিড → সোডিয়াম সাইট্রেট + কার্বন ডাইঅক্সাইড + পানি
টেস্টটিউবে স্পর্শ করলে ঠান্ডা লাগার কারণ কী? কারণ হলো এই বিক্রিয়ায় তাপশক্তি শোষিত হয়। তা না হলে ঠান্ডা লাগত না।
**কাজ: চুন ও ভিনেগারের রাসায়নিক বিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ**
**উপকরণ:** চুন, ভিনেগার, বিকার, হাতেমাজা, ড্রপার।
**পদ্ধতি:** হাতেমাজা পরে কিছু চুন বিকারে নাও। এরপর ড্রপার দিয়ে আস্তে আস্তে ভিনেগার যোগ করা। বিকারে গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে দেখো। কারণ কী? এখানে চুনের সাথে ভিনেগারের বিক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট ও পানি তৈরি হচ্ছে আর প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন হচ্ছে। উৎপন্ন তাপের কারণে বিকারের গায়ে হাত দিলে গরম লাগে।
CaO + 2CH₃COOH → (CH₃COO)₂Ca + H₂O
(ক্যালসিয়াম অক্সাইড + অ্যাসিটিক এসিড → ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট + পানি)
এখানে চুন হলো ক্ষারীয় পদার্থ ও এসিটিক এসিড হলো অম্লধর্মী পদার্থ। আর উৎপাদিত ক্যালসিয়াম এসিটেট হলো নিরপেক্ষ লবণ। এ জাতীয় বিক্রিয়ায়, যেখানে বিপরীত ধর্মী পদার্থ একে অপরের সাথে বিক্রিয়া করে নিরপেক্ষ পদার্থ তৈরি করে, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া (Neutralization reaction) বলে।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে লেবুর রস ও বেকিং সোডার বিক্রিয়ার ছবি এবং চুন ও ভিনেগারের বিক্রিয়ার ছবি যোগ করুন।
---
### স্লাইড ৮: শুষ্ক কোষ (Dry Cell)
**পাঠ ১২-১৪: শুষ্ক কোষ (Dry cell)**
আমরা টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম রিমোট কন্ট্রোলার, নানারকম খেলনা ইত্যাদি চালিয়ে ব্যাটারি ব্যবহার করি, এগুলো ড্রাইসেল বা শুষ্ক কোষ বলে।
তোমরা কি জানো, এই শুষ্ক কোষ কীভাবে তৈরি করা হয়?
প্রথমে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH₄Cl), কয়লার গুঁড়া এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড (MnO₂) ভালোভাবে মিশিয়ে তাতে লবণ পরিমাণ পানি যোগ করে একটি পেস্ট বা লেই তৈরি করা হয়। এই মিশ্রণটি সিলিন্ডার আকারের দস্তার চোঙে দিয়ে তার মধ্যে একটি কার্বন দণ্ড এমনভাবে বসানো হয় যাতে দণ্ডটি দস্তার চোঙকে স্পর্শ না করে। কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি ধাতব টুপি পরানো থাকে। শুষ্ক কোষের উপরের অংশ কার্বন দণ্ডটির চারপাশ পিচের আস্তরণ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। দস্তার চোঙটিকে একটি শক্ত কাগজ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। এখন আমরা দেখি কীভাবে শুষ্ক কোষ কাজ করে।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডের ডানদিকে শুষ্ক কোষের চিত্র (Dry Cell Diagram) বসান এবং বিভিন্ন অংশ লেবেল করুন (যেমন: কার্বন দণ্ড, দস্তার চোঙ, অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি)।
---
### স্লাইড ৯: তড়িৎ বিশ্লেষণ (Electrolysis)
**কাজ: শুষ্ক কোষ দিয়ে তড়িৎ চালনা করে শক্তির রূপান্তর দেখা**
**প্রয়োজনীয় উপকরণ:** ১টি বৈদ্যুতিক বাল্ব, ১টি শুষ্ক কোষ, ২টি তার।
**পদ্ধতি:** ১টি তারের এক প্রান্ত শুষ্ক কোষের অ্যানোড ও অপর তারটি ক্যাথোডের সাথে যুক্ত করা। এবার চিত্রের মতো করে বৈদ্যুতিক বাল্বের সাথে তার দুটি সংযোগ দাও। বাল্বটি জ্বলে উঠল। কারণ হলো এখানে তোমার তারের মাধ্যমে বাল্ব ও কোষের মধ্যে একটি বৈদ্যুতিক সার্কিট তৈরি হয়েছে।
এখানে কী ধরনের শক্তির রূপান্তর ঘটল? বর্তনী তৈরি হওয়ার ফলে বাল্ব জ্বলছে এবং তা আলোকশক্তি দিচ্ছে। এই আলোক শক্তি হচ্ছে কোষের রাসায়নিক শক্তির একটি রূপ। আর কোষের শক্তির উৎস হচ্ছে শুষ্ক কোষে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ অর্থাৎ দস্তা, অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড। তাহলে বলা যায়, যে সকল রাসায়নিক পদার্থের সঞ্চিত শক্তি রূপান্তরিত হয়ে আলোক শক্তি উৎপন্ন করে।
অর্থাৎ এখানে রাসায়নিক শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
**তড়িৎবিশ্লেষণ (Electrolysis)**
**কাজ: তড়িৎ বিশ্লেষণ সম্পর্কে ধারণা**
**প্রয়োজনীয় উপকরণ:** ব্যাটারি, তার (দুটি), ড্রইং জিংক দণ্ড (তড়িৎদ্বার), পানি, লবণ, একটি কাচ পাত্র।
**পদ্ধতি:** কাচ পাত্রে ৩০০ মিলিলিটার পানি নিয়ে ৩০ গ্রাম সোডিয়াম ক্লোরাইড বা লবণ যোগ করে ভালোভাবে নাড়ো দাও। এবার জিংক দণ্ড দুইটি চিত্র অনুযায়ী তার দিয়ে ব্যাটারির সাথে সংযুক্ত করো। জিংক দণ্ডের ডুবানো অংশ দুটোতে কিছু গ্যাসের বুদবুদ দেখতে পাচ্ছে কি?
হ্যাঁ, এর কারণ হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে ধনাত্মক সোডিয়াম আয়ন (Na⁺) ও ঋণাত্মক ক্লোরাইড আয়ন (Cl⁻) উৎপন্ন হয়।
NaCl → Na⁺ + Cl⁻
একইভাবে দ্রবণে পানি বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন ও হাইড্রোক্সিল আয়ন উৎপন্ন করে।
H₂O → H⁺ + OH⁻
বাতাসের সাথে সংযোগ দিয়ে ধ্রুবক বিভবের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে হাইড্রোজেন আয়ন ও ক্লোরাইড আয়ন অ্যানোডের দিকে অগ্রসর হয়। ক্লোরাইড আয়ন (Cl⁻) অ্যানোডে গিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ক্লোরিন গ্যাস (Cl₂) উৎপন্ন করে। তাই আমরা অ্যানোডে গ্যাসের বুদবুদ দেখতে পাই। অনুরূপে সোডিয়াম আয়ন ও হাইড্রোজেন আয়ন ক্যাথোডের দিকে অগ্রসর হয়। বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে ক্যাথোডে হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) ক্যাথোডে গিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) উৎপন্ন করে, যার ফলে ক্যাথোডে হাইড্রোজেন গ্যাসের বুদবুদ দেখা যায় ও দ্রবণে সোডিয়াম আয়ন (Na⁺) ও হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH⁻) থেকে যায়।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডে শুষ্ক কোষ দিয়ে বাল্ব জ্বালানোর চিত্র এবং তড়িৎ বিশ্লেষণের চিত্র (Electrolysis Diagram) যোগ করুন।
---
### স্লাইড ১০: তড়িৎ বিশ্লেষ্য ও অ-তড়িৎ বিশ্লেষ্য
যে সমস্ত পদার্থ দ্রবীভূত বা গলিত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে এবং তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে অন্য পদার্থে পরিণত হয়, তাদেরকে তড়িৎবিশ্লেষ্য (Electrolyte) বলে। যেমন- লবণ, সব পদার্থ তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে সমস্ত পদার্থ দ্রবীভূত বা গলিত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে না ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়াও করে না, তাদেরকে তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। যেমন- চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি।
**নতুন শব্দ:** যোজনী, যৌগমূলক, সংযোজন, দহন, প্রতিস্থাপন, প্রশমন, অ্যানোড, ক্যাথোড, তড়িৎবিশ্লেষণ, তড়িৎ বিশ্লেষ্য, স্ল্যাকড লাইম।
**এই অধ্যায়ে শেখা শিখলাম—**
* মৌলের যোজনীর সংখ্যা অনুযায়ী মৌলগুলো একে অন্যের সাথে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে।
* রাসায়নিক সমীকরণে পদার্থগুলো সমীকরণটির তীর চিহ্নের বামদিকে এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলো তীর চিহ্নের ডানদিকে লেখা হয়।
* সংযোজন বিক্রিয়ায় একের অধিক পদার্থ একত্রিত হয়ে একটি নতুন পদার্থ তৈরি করে।
* দহন বিক্রিয়ায় একটি পদার্থ বাতাসের অক্সিজেনের সাহায্যে পুড়ে প্রচুর তাপশক্তি ও আলোকশক্তি উৎপন্ন করে।
* প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ায় একটি মৌল কোনো যৌগ থেকে অন্য একটি মৌলকে প্রতিস্থাপিত করে নতুন পদার্থ তৈরি করে।
* যে বিক্রিয়ায় একটি যৌগ ভেঙে একের অধিক নতুন পদার্থে পরিণত হয় তাকে বিয়োজন বিক্রিয়া বলে।
* প্রশমন বিক্রিয়ায় বিপরীত ধর্মী পদার্থ বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিরপেক্ষ করে নিরপেক্ষ পদার্থ উৎপন্ন করে।
* দহন বিক্রিয়ায় সাধারণত রাসায়নিক শক্তি তাপ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
* রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির রূপান্তর ঘটে।
* শুষ্ক কোষ ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক শক্তি রূপান্তরিত হয় আলোকশক্তি বা অন্য কোনো শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
* যে সমস্ত পদার্থ দ্রবীভূত বা গলিত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে তাদেরকে তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডের ডানদিকে একটি চার্ট দিন যেখানে তড়িৎ বিশ্লেষ্য এবং অ-তড়িৎ বিশ্লেষ্যের উদাহরণ দেওয়া আছে।
---
### স্লাইড ১১: নমুনা প্রশ্ন - বহুনির্বাচনি (MCQ) ও উত্তর
**নিচের কোনটি সঠিক?**
১. কোনটি স্ল্যাকড লাইম?
ক. CaO খ. CaCO₃ গ. CaCl₂ ঘ. Ca(OH)₂
**উত্তর: ঘ. Ca(OH)₂**
২. একজন ডুবুরি নিচের কোন যৌগটির বিয়োজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে অক্সিজেন পায়?
ক. CaCO₃ খ. CuCO₃ গ. KClO₃ ঘ. NH₄Cl
**উত্তর: গ. KClO₃**
**নিচের উদ্দীপকের আলোকে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:**
সাহানা ল্যাবরেটরিতে একটি বিকারে কিছু চুন নিয়ে এর মধ্যে ড্রপার দিয়ে ভিনেগার যোগ করল। কিছুক্ষণ পর সে বিকারটি হাত দিয়ে স্পর্শ করে তাপমাত্রার পরিবর্তন লক্ষ্য করল।
৩. বিকারে কোন ধরনের বিক্রিয়া সংঘটিত হয়েছে?
ক. দহন খ. প্রশমন গ. সংযোজন ঘ. প্রতিস্থাপন
**উত্তর: খ. প্রশমন**
৪. উদ্দীপকে উল্লেখিত যৌগের মধ্যে বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হবে-
i. ক্যালসিয়াম এসিটেট ii. ক্যালসিয়াম কার্বনেট iii. পানি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ. i ও iii**
---
### স্লাইড ১২: সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
**১. রাসায়নিক সমীকরণ সমতাকরণ:**
i. কার্বন + অক্সিজেন → তাপ
ii. চুনাপাথর → তাপ
iii. হাইড্রোজেন + অক্সিজেন → তাপ
iv. জিংক + সালফিউরিক এসিড →
ক. তড়িৎ বিশ্লেষ্য কাকে বলে?
**উত্তর:** যে সমস্ত পদার্থ দ্রবীভূত বা গলিত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে এবং তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে অন্য পদার্থে পরিণত হয়, তাদেরকে তড়িৎবিশ্লেষ্য বলে।
খ. 'NH₄⁺' একটি যৌগমূলক- ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** যে পরমাণুসমষ্টি স্বাধীনভাবে থাকে না কিন্তু মৌলিক পদার্থের মতো মৌলিক গুণাগুণ সম্পন্ন করে এবং যৌগ গঠন করে, তাকে যৌগমূলক বলে। NH₄⁺ আয়নটি একাধিক পরমাণু (১টি নাইট্রোজেন ও ৪টি হাইড্রোজেন) নিয়ে গঠিত কিন্তু এটি স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না, এটি সর্বদা অন্য মৌলের সাথে যুক্ত হয়ে যৌগ তৈরি করে। তাই NH₄⁺ একটি যৌগমূলক।
গ. উদ্দীপকের কোন বিক্রিয়ায় মৌলিক গ্যাস উৎপন্ন হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** উদ্দীপকের ii নং বিক্রিয়ায় (চুনাপাথর → তাপ) মৌলিক গ্যাস উৎপন্ন হয়েছে। চুনাপাথর (CaCO₃) কে তাপ দিলে এটি বিয়োজিত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) গ্যাস উৎপন্ন করে। যেহেতু CO₂ একটি মৌলিক গ্যাস, তাই ii নং বিক্রিয়ায় মৌলিক গ্যাস উৎপন্ন হয়েছে।
ঘ. i ও iii নং সংযোজন বিক্রিয়া হলে তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে কিনা বিশ্লেষণ করো।
**উত্তর:** i নং বিক্রিয়া (C + O₂ → CO₂) এবং iii নং বিক্রিয়া (2H₂ + O₂ → 2H₂O) উভয়ই সংযোজন বিক্রিয়া। এদের মধ্যে পার্থক্য হলো: i নং বিক্রিয়ায় কার্বন ও অক্সিজেন যুক্ত হয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস তৈরি করে, যা একটি অজৈব যৌগ। অন্যদিকে iii নং বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন যুক্ত হয়ে পানি (H₂O) তৈরি করে, যা একটি অজৈব যৌগ। উভয়ই সংযোজন বিক্রিয়া হলেও গঠিত যৌগের প্রকৃতি ও ভৌত অবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
**২. তামার তার পুড়লে ব্যাটারির সাথে সংযোগ দিয়ে পুড়লে নাচ দেখলি। এমন সময় বিদ্যুৎ চললো না। এর চেয়ে বোঝা গেল কিছু ক্ষতি হয়ে গেল।**
ক. প্রশমন বিক্রিয়া কী?
**উত্তর:** যে বিক্রিয়ায় একটি ক্ষারীয় পদার্থ ও একটি অম্লীয় পদার্থ পরস্পর বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
খ. লাইম ওয়াটার বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** লাইম ওয়াটার হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের (Ca(OH)₂) সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ। চুনকে পানিতে দ্রবীভূত করে এই দ্রবণ তৈরি করা হয়। কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস চুনের পানির মধ্য দিয়ে চালনা করলে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) এর সৃষ্টি হয়, যার ফলে পানি ঘোলা হয়ে যায়। এজন্যই লাইম ওয়াটার ব্যবহৃত হয়।
গ. তামার তার পুড়লে ব্যবহৃত ব্যাটারির গঠন ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** তামার তার পুড়লে ব্যবহৃত ব্যাটারিটি হলো শুষ্ক কোষ (Dry cell)। এতে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH₄Cl), কয়লার গুঁড়া এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড (MnO₂) এর পেস্ট সিলিন্ডার আকারের দস্তার চোঙে ভরা থাকে। মাঝখানে একটি কার্বন দণ্ড থাকে যা দস্তার চোঙকে স্পর্শ করে না। কার্বন দণ্ডটি পজিটিভ টার্মিনাল (+) এবং দস্তার চোঙটি নেগেটিভ টার্মিনাল (-) হিসেবে কাজ করে।
ঘ. গুপ্ত ও মোমবাতিতে শক্তির কী ধরনের রূপান্তর ঘটে? বিশ্লেষণ করো।
**উত্তর:** গুপ্ত ও মোমবাতিতে রাসায়নিক শক্তি তাপশক্তি ও আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। মোমবাতির মোম হলো হাইড্রোকার্বন। এটি বাতাসের অক্সিজেনের সাথে দহন বিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন করে। এই বিক্রিয়ায় মোমের সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি তাপ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
---
### স্লাইড ১৩: সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
১. কার্বনকে পুড়িয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইডে পরিণত করা কোন ধরনের বিক্রিয়া? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** এটি সংযোজন বিক্রিয়া। কারণ এখানে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O₂) একত্রিত হয়ে নতুন যৌগ কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) তৈরি করেছে। যেহেতু দুটি ভিন্ন পদার্থ মিলিত হয়ে একটি নতুন পদার্থ তৈরি করেছে, তাই এটি সংযোজন বিক্রিয়া।
২. চুনে পানি যোগ করলে কী ঘটে? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** চুনে (CaO) পানি (H₂O) যোগ করলে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Ca(OH)₂) উৎপন্ন হয় এবং প্রচুর তাপশক্তি নির্গত হয়। এটি একটি সংযোজন বিক্রিয়া। CaO + H₂O → Ca(OH)₂ + তাপ।
৩. পটাশিয়াম ক্লোরেটকে উত্তপ্ত করলে কী ঘটে? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** পটাশিয়াম ক্লোরেটকে (KClO₃) উত্তপ্ত করলে এটি বিয়োজিত হয়ে পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCl) এবং অক্সিজেন (O₂) গ্যাস উৎপন্ন করে। এটি একটি বিয়োজন বিক্রিয়া। 2KClO₃ → 2KCl + 3O₂।
---
### স্লাইড ১৪: প্রজেক্ট (Project)
**প্রজেক্ট:** তোমরা নিজেরা ৪-৫ জনের দল তৈরি করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত অন্তত ৫টি রাসায়নিক বিক্রিয়া খুঁজে বের করো। এ সকল বিক্রিয়ায় শক্তির রূপান্তর ঘটে কিনা চিন্তা করো। শক্তির রূপান্তর ঘটলে কী ধরনের রূপান্তর ঘটে তার উপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।
**[ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্দেশনা]:** স্লাইডের শেষে শিক্ষার্থীদের দলগত কাজের নির্দেশনা দিন এবং কীভাবে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে তার একটি রূপরেখা দিন।