Creator prompt
The idea behind this presentation
নিচে পূর্বের সব স্লাইডের কন্টেন্টের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তরগুলো (MCQ, সৃজনশীল, সংক্ষিপ্ত ও নতুন শব্দের অর্থ) যুক্ত করে সম্পূর্ণ স্লাইড আকারে দেওয়া হলো:
---
### স্লাইড ১: অধ্যায়ের শিরোনাম
**একাদশ অধ্যায়**
**আলো**
আলোক রশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের তির্যকভাবে আপতিত হলে মাধ্যম পরিবর্তনের এর গতিপথের দিক পরিবর্তন দেখা যায়। এটি হলো আলোর প্রতিসরণ। এই অধ্যায়ে আমরা দৈনন্দিন জীবনে সংঘটিত আলোর প্রতিসরণের বিভিন্ন ঘটনা, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন এবং এর প্রয়োগ হিসেবে অপটিক্যাল ফাইবারের সাথে পরিচিত হব। এছাড়া ম্যাগনিফাইং গ্লাসের কাজ, মানব চক্ষু ও ক্যামেরার কার্যক্রম তুলনা নিয়ে আলোচনা করব।
**এ অধ্যায় শেষে আমরা—**
* দৈনন্দিন জীবনে সংঘটিত আলোর প্রতিসরণের ঘটনাগুলো চিত্র অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করতে পারব;
* পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ব্যাখ্যা করতে পারব;
* অপটিক্যাল ফাইবারের কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব;
* ম্যাগনিফাইং গ্লাসের কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব;
* চশমার কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব;
* ক্যামেরা এবং চোখের কার্যক্রম তুলনা করতে পারব;
* আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কার্যক্রমে আলোর অবদান উপলব্ধি করতে পারব।
---
### স্লাইড ২: পাঠ ১: আলোর প্রতিসরণ
তোমরা কি কখনো কোনো কাচের বা গ্লাসের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ছবি দেখার চেষ্টা করেছ? গ্লাস থেকে আলোর প্রতিফলনের ফলে তোমরা কি একটা অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব দেখেছ? এই প্রতিবিম্বটা কি কোনো আয়নার মতোই তৈরি তোমাদের প্রতিবিম্ব থেকে ভিন্ন? এটাকে অনেক বেশি আঁচা লাগে কেন বলতে পারো? গ্লাস বা কাচ হলে স্বচ্ছ মাধ্যম। অধিকাংশ আলোই এর মধ্য দিয়ে চলে যায়, খুবই কম অংশ প্রতিফলিত হয় বলেই প্রতিফলিত প্রতিবিম্বটি এতটা আঁচা দেখা যায়। তাহলে আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে চলে তখন এর গতিপথ কেমন হয়? চলো আমরা এবার এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
**কাজ: আলোর প্রতিসরণের ধারণা**
**প্রয়োজনীয় উপকরণ:** একটি পেনসিল, একটি কাচের গ্লাস, পানি।
**পদ্ধতি:** একটি কাচের গ্লাসে ৩/৪ অংশ পূর্ণ করে পানি নাও। এবার একটি পেনসিলকে একটু কাত করে চিত্রের মতো পানির ভিতর রাখলে পানির ভিতরে পেনসিলের অংশটুকু কেমন দেখায়?
তুমি পানির মধ্যে পেনসিলটিকে পর্যবেক্ষণ করো। তোমার পর্যবেক্ষণকৃত ফলাফল লেখো। আমরা জানি, কোনো বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পৌঁছলে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই। তুমি দেখেছ পেনসিলটিকে পানির মধ্যে খাড়া, মোটা এবং পানির তল বরাবর এটি ভেঙে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
উপরের কাজটির ক্ষেত্রে পানির ভিতরে পেনসিলের নিচের অংশ থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে এসে পড়ছে। এর পূর্বে এটি এক স্বচ্ছ মাধ্যম পানি থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যম বায়ুতে এসে তোমাদের চোখে পড়ছে। দুইটি ভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে যদি একই সরল রেখায় চলত তাহলে পেনসিলটিকে নিশ্চয়ই সোজা দেখত। কিন্তু তোমরা দেখতে পেলে এটিকে পানির তলে ভেঙে গেছে বলে মনে হচ্ছে। এর থেকে সিদ্ধান্তে নেওয়া যায়, আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি তার গতিপথের দিক পরিবর্তন করে। আলোক রশ্মির এই দিক পরিবর্তনকে আমরা বলি আলোর প্রতিসরণ। একটি নির্দিষ্ট স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে আলো সরল রেখায় চলে, কিন্তু অন্য মাধ্যমের প্রবেশের সাথে সাথে এই মাধ্যমের আলোকীয় বৈশিষ্ট্য অনুসারে দিক পরিবর্তন করে। এখানে উল্লেখ্য যে, সম্ভবত আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় এর গতিপথের কোনো দিক পরিবর্তন হয় না।
---
### স্লাইড ৩: পাঠ ২ ও ৩: আলোর প্রতিসরণের নিয়ম
আলোক রশ্মি প্রতিসরণের সময় যে নিয়মগুলো মেনে চলে তা বোঝার জন্য প্রথমেই পরীক্ষাটি করে নাও।
**কাজ: কাচফলকে আলোর প্রতিসরণ**
**প্রয়োজনীয় উপকরণ:** কাচফলক, ড্রইং বোর্ড।
**পদ্ধতি:** প্রথমে ড্রইং বোর্ডে একটি সাদা কাগজ আটকিয়ে নাও। কাচফলকটিকে সাদা কাগজের কেন্দ্রে রাখো এবং এর চারদিকে দাগাঙ্কিত করো। এবার কাচফলকটি সরিয়ে নাও এবং একটি আপতিত রশ্মি AB আঁকো। মোটামুটি ৫ সে.মি দূরত্বে AB রেখার উপর P এবং Q বিন্দুতে দুইটি পিন খাড়াভাবে রাখো। কাচফলকটি পুনরায় পূর্বের স্থানে রাখো এবং পিন যেখানে পৌঁছেছে তার উপর দিয়ে দেখতে দেখতে সেটি দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করো (শিক্ষকের নির্দেশনা প্রয়োজন)।
এবার কাচফলকের অপর প্রান্তে R এবং S বিন্দুতে আরও দুইটি পিন খাড়াভাবে রাখো যেন কাচফলকের মধ্য দিয়ে P, Q, R এবং S একই রেখায় আছে বলে মনে হয়। R এবং S বিন্দু দুইটি চিহ্নিত করে পুনরায় কাচফলক সরিয়ে CD রেখা আঁকো। SP রেখাটিকে বর্ধিত করো। P বিন্দুতে NN' লম্ব আঁকো। পরবর্তীতে AB, প্রতিসরণ কোণ CBN' এবং নিগত কোণ DCM' চিহ্নিত করে মাপো।
উপরের কাজটি করে তোমরা কী পর্যবেক্ষণ করতে পারছো? এখানে আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যম (বায়ু) থেকে ঘন মাধ্যমে (কাচ) প্রবেশ করেছে। কোণগুলোকে মেপে দেখা যাচ্ছে আপতন কোণ i প্রতিসরণ কোণ r অপেক্ষা বড় এবং আপতন কোণ i ও নিগমন কোণ e সমান। তাহলে তোমরা সিদ্ধান্তে নিতে পারো:
* আলোক রশ্মি যখন হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্বের দিকে সরে আসে। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ অপেক্ষা বড় হয়।
* আলোকরশ্মি প্রথমে একটি মাধ্যম থেকে (যেমন বায়ু) অন্য মাধ্যমে (কাচ) প্রতিসরিত হওয়ার পর পুনরায় একই মাধ্যমে (বায়ু) নিগত হলে আপতন কোণ ও নিগমন কোণ সমান হয়।
* আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
* এছাড়াও উপরের পরীক্ষাটি নায় অনুপুঙ্খ পরীক্ষণ থেকে দেখা গেছে যে, আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ অপেক্ষা ছোট হয়।
* আলোক রশ্মি যখন অভিলম্ব বরাবর আপতিত হয় তখন আপতন কোণ, প্রতিসরণ কোণ ও নিগত কোণের মান শূন্য হয়। এক্ষেত্রে আপতিত রশ্মির দিক পরিবর্তন হয় না।
---
### স্লাইড ৪: পাঠ ৪ ও ৫: প্রতিসরণের বাস্তব প্রয়োগ
তোমরা এখন নিচের কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রতিসরণের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে পাবে।
(১) একটি সোজা লাঠিকে কাত করে পানিতে ডুবালে উপর থেকে তাকালে পানির ভিতর লাঠির অংশটি কেমন দেখাবে? পর্যবেক্ষণ করে দেখো লাঠিটি ছোটো, মোটা এবং উপরে দেখা যাবে বলে মনে হচ্ছে? আসলে প্রতিসরণের ফলে এমন হচ্ছে।
(২) একটি সিটলের মগ বা চিনামাটির বাটি নাও। এপর মগ বা বাটিতে একটি মুদ্রা রাখ। এখন তোমার চোখকে এমন স্থানে রাখ যেন তুমি মুদ্রাটিকে দেখতে না পাও। এবার অন্য একজনকে ধীরে ধীরে মগ বা বাটিতে পানি ঢালতে বলো। কী হবে এবং কেন হবে তা বলতে পারবে? পর্যবেক্ষণ করে দেখবে, আস্তে আস্তে তুমি মুদ্রাটিকে দেখতে পাবে। এটি প্রতিসরণের ফলে সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিসরণের ফলে আলো ঘন মাধ্যম পানি থেকে হালকা মাধ্যম বায়ুতে তোমার চোখে প্রতিসরিত হওয়ায় তুমি মুদ্রাটির অবাস্তব প্রতিবিম্ব দেখতে পাচ্ছো।
(৩) তুমি কি কখনো মাছ শিকার করেছ? সাধারণত পানিতে যে জায়গায় মাছটি দেখা যায় আসলে মাছটি ও জায়গায় থাকে? মোটেই না? আসলে যে মাছটি আমরা দেখি এটি হলো তার অবাস্তব প্রতিবিম্ব। প্রকৃতপক্ষে মাছ থাকে আরেকটু দূরে এবং গভীরে। যদি তুমি টিছা বা বর্শা দিয়ে মাছ মারতে চাও, তাহলে এটিকে মারতে হবে আরও নিচে ও দূরে।
(৪) তুমি নিশ্চয়ই ব্যর্থকালে দেখেছ যে পুকুর ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। ব্যর্থ সঞ্চ পানি জন্য পুকুর ঘাটের সিঁড়িটা কোথায় দেখা যায়? আসলে এটিকে যেখানে দেখা যায় এটা থেকে তার চেয়ে একটু নিচে। ফলে অনেকেই বুঝতে না পেরে পড়ে যাওয়ার পারে। এমন ঘটনা আরও দেখতে পাবে তোমরা যদি সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের পাশে অবশিষ্ট ছোট্রা ডুবে বেড়াতে গিয়ে থাকো। ওখানকার স্বচ্ছ পানিতে নিচের পাথর ও নুশবাল অনেক কাছে মনে হয়। এটা হয় মূলত আলোর প্রতিসরণের জন্য।
---
### স্লাইড ৫: পাঠ ৬ ও ৭: পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ও সঙ্কট কোণ (ক্রান্তি কোণ)
আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন প্রতিসৃত রশ্মি আপতন বিন্দুতে অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। ফলে প্রতিসরণ কোণ আপতনের চেয়ে বড় হয়। এভাবে আপতন কোণের মান ক্রম বাড়তে থাকলে প্রতিসরণ কোণও অনুপাতবে বাড়তে থাকে।
কিন্তু ওই নির্দিষ্ট দুইটি মাধ্যমের জন্য আপতন কোণের কোনো একটি মানের জন্য (এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ৯০° অপেক্ষা কম) প্রতিসরণ কোণের মান ৯০° হয় অর্থাৎ প্রতিসৃত রশ্মিটি বিভেদতল বরাবর চলে যায়। এ ক্ষেত্রে ওই আপতন কোণকে আমরা সঙ্কট কোণ বলি। এখন আপতন কোণের মান যদি সঙ্কট কোণের চেয়ে বেশি হয় তখন কী হবে? প্রতিসরণ কোণের মান তো আর ৯০° এর বেশি হতে পারে না?
পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ও ক্ষেত্রে আলোক রশ্মি আর প্রতিসরিত না হয়ে বিভেদ তল থেকেই একই মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে আসবে। এক্ষেত্রে বিভেদ তল প্রতিফলক হিসেবে কাজ করে এবং এই প্রতিফলন সাধারণ প্রতিফলনের নিয়মাবলী মেনে চলে। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলা হয়। অর্থাৎ ঘন মাধ্যম থেকে আসা আপতিত রশ্মি যখন দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সাধারণ প্রতিফলনের নিয়মাবলী মেনে চলে। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলা হয়। অর্থাৎ ঘন মাধ্যম থেকে আসা আপতিত রশ্মি যখন দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সাধারণ প্রতিফলনের নিয়মাবলী মেনে চলে। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলা হয়।
চিত্র অনুসারে PQ আপতিত রশ্মির জন্য আপতন কোণ সঙ্কট কোণের চেয়ে ছোট, যার প্রতিসৃত রশ্মি হলে OQ'। QO আপতিত রশ্মির জন্য আপতন কোণ সঙ্কট কোণের সমান। যার প্রতিসৃত রশ্মি হলে OQ' রশ্মি এবং এটি বিভেদ তল বরাবর প্রতিসরিত হয়েছে অর্থাৎ প্রতিসরণ কোণ ৯০°। RO রশ্মির জন্য আপতন কোণ সঙ্কট কোণের চেয়ে বড়। এক্ষেত্রে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয়েছে OR' রশ্মিটি প্রতিফলিত রশ্মি।
এখন প্রশ্ন হলো এর সাধারণ প্রতিফলনের পার্থক্য কোথায়? সাধারণ প্রতিফলনের সময় দেখা যায় আলোর কিছু অংশ প্রতিসরিত হয়; কিন্তু পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ক্ষেত্রে দেখা যায় সমস্ত আলোক রশ্মি প্রতিফলিত হয়।
**পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত**
১. আলোক রশ্মিকে ঘন থেকে হালকা মাধ্যমে যাওয়ার সময় এটি ঘটে।
২. ঘন মাধ্যমের আপতন কোণ অবশ্যই এই মাধ্যম দুটির সঙ্কট কোণের চেয়ে বড় হতে হবে।
---
### স্লাইড ৬: পাঠ ৮: অপটিক্যাল ফাইবার ও ম্যাগনিফাইং গ্লাস
**অপটিক্যাল ফাইবার**
অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাচতন্তু। এটা মানুষের চুলের মতো মোট চিকন এবং নমনীয়। আলোক রশ্মিকে বাঁকানোর কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। আলোক রশ্মি যখন একই কাচতন্তুের মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় চলতে থাকা আলোক রশ্মি কাচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অঙ্গ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য অপটিক্যাল ফাইবারের সাথে সংযুক্ত একটি ক্ষুদ্র ক্যামেরা ব্যবহার করে।
**বিবর্ধক কাচ বা ম্যাগনিফাইং গ্লাস**
তোমরা কেউ কেউ ছোটো কোনো বস্তুকে বড় করে দেখার জন্য বিবর্ধক কাচ ব্যবহার করে থাকবে। এটি এক ধরনের উত্তল লেন্স। কোনো উত্তল লেন্সের নির্দিষ্ট একটি দূরত্বের মধ্যে কোনো বস্তুকে স্থাপন করলে লেন্সের অপর পাশ থেকে বস্তুটিকে দেখলে বস্তুটির একটি সোজা, বিবর্ধিত ও অবাস্তব প্রতিবিম্ব দেখা যায়। এখন এই প্রতিবিম্ব চোখের যত কাছে গঠিত হবে চোখের দৃষ্টি কোণও তত বড় হবে এবং প্রতিবিম্বটিও বড় দেখাবে। কিন্তু প্রতিবিম্ব চোখের খুব কাছে গঠিত হলে চোখের খুব কষ্ট হয়। তাই বিবর্ধক কাচ দিয়ে দেখার সময় চোখকে বস্তুর খুব কাছে নিয়ে যেতে হয়। লেন্সের প্রধান ফোকাসের ভিতরে বস্তুটি রাখলে লেন্সের অপর পাশে যে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, তাকে বিবর্ধিত বলে।
---
### স্লাইড ৭: পাঠ ৯ ও ১০: মানব চক্ষু
চোখ আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের অন্যতম। চোখ দিয়ে আমরা দেখি। মানব চক্ষুর কার্যক্রমটি ছবি তোলার ক্যামেরার মতো। চিত্রে মানব চক্ষুর বিভিন্ন অংশ দেখানো হয়েছে। প্রধান অংশগুলো বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।
(ক) **অক্ষিগোলক (Eye-ball):** চোখের কেন্দ্রে অবস্থিত এর গোলাকার অংশকে অক্ষিগোলক বলে। একে চোখে কোটরের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সীমার চারদিকে ঘুরানো যায়।
(খ) **শ্বেতমণ্ডল (Sclera):** এটি অক্ষিগোলকের বাইরের সাদা, শক্ত ও ঘন জারুতুপূর্ণ আবরণবিশেষ। এটি চোখকে বাইরের বিভিন্ন প্রকার আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং চোখের আয়তন ঠিক রাখে।
(গ) **কর্নিয়া (Cornea):** শ্বেতমণ্ডলের সামনের অংশকে কর্নিয়া বলে। শ্বেতমণ্ডলের এই অংশ স্বচ্ছ এবং অন্যান্য অংশ অপেক্ষা সামনের দিকে অভিকেন্দ্র উঁচু।
(ঘ) **কোরয়েড বা কৃষ্ণমণ্ডল (Choroid):** এটি কালো রঙের একটি মসৃণ আস্তরণ। চোখকে আলো প্রতিফলিত করে না।
(ঙ) **আইরিস (Iris):** এটি কর্নিয়ার ঠিক পিছনে অবস্থিত একটি অস্বচ্ছ পর্দা। পর্দাটি সাদা ও কালোয় রঙের মিশ্রণে তৈরি হয়। আইরিসের মাঝখানে একটি ছিদ্র থাকে। এ ছিদ্রের মধ্য দিয়ে আলো চোখের ভিতরে প্রবেশ করে।
(চ) **মণি বা তারারন্ধ্র (Pupil):** এটি কর্নিয়ার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মানবসৃষ্ট এক গোলাকার ছিদ্রপথ। মণির আকার আলোর তারতম্যের প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়।
(ছ) **চোখের লেন্স (Lens):** এটি কর্নিয়ার পিছনে অবস্থিত জেলির মতো নরম স্বচ্ছ পদার্থে তৈরি একটি উত্তল লেন্স।
(জ) **অক্ষিপট বা রেটিনা (Retina):** এটি গোলকের পিছনে অবস্থিত একটি সূক্ষ্ম গোলাপি আবরণবাহী পর্দা। রেটিনার উপর আলো পড়লে স্নায়ুতন্ত্রে এক প্রকার উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে দর্শনের অনুভূতি জাগায়।
(ঝ) **অ্যাকুয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমার (Aqueous humour and vitreous humour):** লেন্স ও কর্নিয়ার মাঝখানে একটি স্বচ্ছ জলীয় পদার্থ থাকে। একে বলে অ্যাকুয়াস হিউমার। লেন্স ও রেটিনার মাঝখানে অবস্থিত জেলির মতো পদার্থকে বলে ভিট্রিয়াস হিউমার।
---
### স্লাইড ৮: আলোক-চিত্রগ্রাহী ক্যামেরা (Photographic Camera)
এই যন্ত্রে আলোকিত বস্তুর ছবি লেন্সের সাহায্যে আলোক চিত্রগ্রাহী প্লেটের উপর গঠন করা হয়। এই কারনে যন্ত্রটি আলোক-চিত্রগ্রাহী ক্যামেরা বা সংক্ষেপে ক্যামেরা নামে পরিচিত। ক্যামেরার বিভিন্ন অংশ হলো:
(১) ক্যামেরা বক্স (২) ক্যামেরা লেন্স (৩) লেন্স ও ডায়াফ্রাম (৪) শাটার (৫) পর্দা (৬) আলোক চিত্রগ্রাহী প্লেট এবং (৭) স্লাইড।
**ক্রিয়া (Action):** কোনো বস্তুর ছবি তোলার পূর্বে ক্যামেরায় ঘষা কাচের পর্দাটি বসিয়ে যন্ত্রটিকে লক্ষ্যবস্তু PQ এর দিকে ধরে সাটার খুলে দেওয়া হয়। অংশত ক্যামেরার বাক্সের দৈর্ঘ্য কমিয়ে বাড়িয়ে এমন অবস্থায় রাখা হয়, যাতে লক্ষ্যবস্তুর উত্তল প্রতিবিম্ব PQ গঠিত হয়। এভাবে কাজটি লক্ষ্যবস্তুর সঠিক অবয়ব ক্যামেরার ভিতরে প্রবেশ করানো হয়।
ছবি তোলার জন্য ক্যামেরার ভিতরে আলোক-সংবেদনশীল প্লেট বা ফিল্ম ব্যবহার করা হয়। আলো এই ফিল্মের উপর পড়লে ফিল্মে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। এভাবে ফিল্মের উপর বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। ফিল্মটি ডেভেলপার (developer) নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রবণে ডুবিয়ে রাখা হয়। সিলভার হ্যালাইড ডেভেলপার বিজারিত (reduction) প্রক্রিয়ায় রূপা ধাতবে পরিণত করে। লক্ষ্যবস্তুর যেখানে যত উজ্জ্বল, সেখানে তত ঘন ও কালো দেখায়। আলোর তীব্রতা ও উজ্জ্বলতার উপর রূপার পরিমাণ নির্ভর করে।
এখন পজিটিভ ছবি পাওয়ার জন্য নেগেটিভের নিচে সিলভার হ্যালাইড প্রলেপ দেওয়া ফটোগ্রাফিক কাগজ রাখা হয়। আলো ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর পড়ে হাইপো দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে পজিটিভ ছবি পাওয়া যায়।
---
### স্লাইড ৯: ক্যামেরার সাথে মানব চক্ষুর তুলনা
| ক্যামেরা | চোখ |
| :--- | :--- |
| ১) এটি একটি বন্ধ আলোকবাক্স। এর সামনে একটি লেন্স থাকে যা দিয়ে বাইরের দৃশ্যের প্রতিবিম্ব ক্যামেরার ভিতরে আটকানো হয়। | ১) চোখের অক্ষিগোলকের সামনের দিকে থাকা স্বচ্ছ ও বক্র পৃষ্ঠের কর্নিয়া দিয়ে আলো প্রবেশ করে। |
| ২) ক্যামেরার লেন্সটি একটি উত্তল লেন্স। | ২) চোখের লেন্সটি একটি উত্তল লেন্স। |
| ৩) ক্যামেরার লেন্সের ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তন করা যায়। | ৩) চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তন করা যায় না। |
| ৪) ক্যামেরার ভিতরে আলোক সংবেদনশীল ফিল্ম বা প্লেটে ছবি গঠিত হয়। | ৪) চোখের রেটিনায় ছবি গঠিত হয়। |
---
### স্লাইড ১০: নতুন শব্দ ও সারসংক্ষেপ
**নতুন শব্দ:** আলোর প্রতিসরণ, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন, সঙ্কট কোণ।
**নতুন শব্দের অর্থ:**
* **আলোর প্রতিসরণ (Refraction of Light):** আলোক রশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করে, তখন দুই মাধ্যমের বিভেদতলে তার গতিপথের দিক পরিবর্তন করে। এই ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
* **পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection):** যখন আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করার সময় আপতন কোণ সঙ্কট কোণের চেয়ে বড় হয়, তখন আলো প্রতিসরিত না হয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রথম মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।
* **সঙ্কট কোণ (Critical Angle):** নির্দিষ্ট দুইটি মাধ্যমের জন্য ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে আলো প্রবেশের সময় যে নির্দিষ্ট আপতন কোণের জন্য প্রতিসরণ কোণ ৯০° হয়, সেই আপতন কোণকে সঙ্কট কোণ বা ক্রান্তি কোণ বলে।
**এই অধ্যায়ে শেখা শিখলাম—**
* একটি নির্দিষ্ট স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সরল রেখায় চলে, কিন্তু অন্য মাধ্যমে প্রবেশের সাথে সাথে মাধ্যমের আলোকীয় বৈশিষ্ট্য অনুসারে এর দিক পরিবর্তন হয়।
* আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
* আলোক রশ্মি যখন হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্বের দিকে সরে আসে।
* আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়।
* পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের সময় ঘন মাধ্যম থেকে আসা আপতিত রশ্মি দুটির সঙ্কট কোণের চেয়ে বড় হতে হবে।
* মানব চক্ষুর কার্যপ্রণালী এবং আলোক চিত্রগ্রাহী ক্যামেরার কার্যপ্রণালীতে বেশ কিছু সাদৃশ্য আছে।
---
### স্লাইড ১১: নমুনা প্রশ্ন - বহুনির্বাচনি (MCQ)
১. চোখের শ্বেতমণ্ডলের সামনের অংশকে কী বলে?
ক. লেন্স খ. রেটিনা গ. কর্নিয়া ঘ. আইরিস
**উত্তর: গ. কর্নিয়া**
২. অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার হয়-
i. খুলানি কাজে ii. পাকস্থলী পর্যবেক্ষণে iii. টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ঘ. i, ii ও iii** (কারণ অপটিক্যাল ফাইবার চিকিৎসা, টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়)।
**নিচের উদ্দীপকের আলোকে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:**
৩. কোন চিত্রে আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম হতে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করবে?
ক. P খ. Q গ. R ঘ. S
**উত্তর: খ. Q** (চিত্র Q-তে আলোকরশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশের ক্ষেত্রে ঘটে)।
৪. কোন চিত্রে আপতন কোণ ও প্রতিসরণ কোণের মান সমান?
ক. P ও Q খ. Q ও R গ. Q ও S ঘ. S ও P
**উত্তর: ঘ. S ও P** (তবে সঠিক বিজ্ঞানসম্মত উত্তর হলো শুধুমাত্র **S**। কারণ চিত্র S-এ আলো অভিলম্ব বরাবর আপতিত হচ্ছে, তাই আপতন কোণ এবং প্রতিসরণ কোণ উভয়ই ০°। অন্য চিত্রগুলোতে আলো বেঁকে যাচ্ছে, তাই কোণ দুটি সমান নয়। প্রশ্নের অপশন অনুযায়ী সবচেয়ে কাছাকাছি উত্তর হলো S, তবে পরীক্ষায় সাধারণত শুধু S-ই সঠিক হিসেবে গণ্য হয়)।
---
### স্লাইড ১২: সৃজনশীল প্রশ্ন
১. আনিস একদিন গোসল করতে পুকুর ঘাটে গেল। সে পুকুরের স্বচ্ছ পানিতে দুষ্পান সিজিটে পা রাখল। কিন্তু সিজিটি তার ধারালো ছেরে নিচে থাকায় সে পড়ে গেল। অনুসিদ্ধে তার ছোট ভাই পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে ছোট মাছ ধরতে গেল। কিন্তু মাছের সঠিক অবস্থান নির্ণয় না করায় সে মাছ ধরতে ব্যর্থ হলো।
ক. আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে?
**উত্তর:** আলোক রশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদতলে তার গতিপথের দিক পরিবর্তন করে। এই ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
খ. আলোক রশ্মি এক ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করলে দিক পরিবর্তন করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** আলোর গতিবেগ ভিন্ন মাধ্যমে ভিন্ন হয়। ঘন মাধ্যমে আলোর গতিবেগ কম এবং হালকা মাধ্যমে আলোর গতিবেগ বেশি। আলো যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি দ্রুত চলার প্রবণতা দেখায় এবং অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। এই গতিবেগের পার্থক্যের কারণেই আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তন হয়।
গ. পুকুরে আনিসের পড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** আনিস যখন পুকুরের সিঁড়িতে পা রাখতে যায়, তখন সিঁড়ি থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে পানির পৃষ্ঠে প্রতিসরণের মাধ্যমে তার চোখে আসে। পানি ঘন মাধ্যম এবং বায়ু হালকা মাধ্যম হওয়ায় আলো অভিলম্ব থেকে দূরে সরে আসে। ফলে সিঁড়িটির অবাস্তব (apparent) প্রতিবিম্ব প্রকৃত অবস্থানের চেয়ে উপরে দেখা যায়। আনিস ভেবেছিল সিঁড়ি উপরে আছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সিঁড়িটি আরও নিচে ছিল। এ কারণেই সে পা রাখতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়।
ঘ. কী ধরনের কোণকে ক্রান্তি কোণ বলা হয়? উদ্দীপকের আলোকে তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
**উত্তর:** যে নির্দিষ্ট আপতন কোণের জন্য ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রতিসরিত আলোক রশ্মি ৯০° কোণে বিভেদতল বরাবর চলে যায়, তাকে ক্রান্তি কোণ বা সঙ্কট কোণ বলে।
উদ্দীপকে আনিসের পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি আলোর প্রতিসরণের ফল। এখানে আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে ছোট হওয়ায় আলো প্রতিসরিত হয়েছে। যদি আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হতো, তবে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটত এবং আলো আর বের হতে পারত না। অর্থাৎ, ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাওয়ার সময় আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হলে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে।
২. চিত্রে...
ক. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন কী?
**উত্তর:** যখন আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করে এবং আপতন কোণ সঙ্কট কোণের চেয়ে বড় হয়, তখন আলো প্রতিসরিত না হয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রথম মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।
খ. ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে সূক্ষ্ম বস্তু দেখার সময় তা বিবর্ধিত দেখায় কেন? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** ম্যাগনিফাইং গ্লাস হলো একটি উত্তল লেন্স। কোনো বস্তুকে উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্বের মধ্যে রাখলে, লেন্সের অপর পাশে বস্তুর একটি সোজা, বিবর্ধিত এবং অবাস্তব প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এই প্রতিবিম্বটি চোখের কাছে অবস্থিত হওয়ায় দৃষ্টি কোণ বেড়ে যায় এবং বস্তুটি বড় দেখায়। এ কারণেই ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে সূক্ষ্ম বস্তু দেখার সময় তা বিবর্ধিত দেখায়।
গ. RO রশ্মির গতিপথ চিত্রে এঁকে ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** চিত্রে RO হলো একটি আপতিত রশ্মি যা ঘন মাধ্যম (কাচ) থেকে হালকা মাধ্যম (বায়ু) এ প্রবেশ করছে। RO রশ্মির আপতন কোণ সঙ্কট কোণের চেয়ে বড় হওয়ায় এটি প্রতিসরিত হবে না, বরং কাচ ও বায়ুর বিভেদতল থেকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে। অর্থাৎ, RO রশ্মিটি বিভেদতল থেকে প্রতিফলিত হয়ে OR' পথে ফিরে যাবে (যেখানে OR' হলো প্রতিফলিত রশ্মি)। চিত্রে RO রশ্মির গতিপথ আঁকলে তা অভিলম্বের অপর পাশে সমান কোণে প্রতিফলিত হবে।
ঘ. চিত্রে কোন রশ্মিটি সঙ্কট কোণ তৈরির করে? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** চিত্রে **QO** রশ্মিটি সঙ্কট কোণ তৈরি করে। কারণ QO রশ্মিটি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে এমনভাবে আপতিত হয়েছে যে তার প্রতিসৃত রশ্মি OQ' বিভেদতল বরাবর (৯০° কোণে) চলে গেছে। যে আপতন কোণের জন্য প্রতিসরণ কোণ ৯০° হয়, তাকেই সঙ্কট কোণ বলে।
---
### স্লাইড ১৩: সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
১. আলো ভিন্ন মাধ্যমে গতিপথ পরিবর্তন করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** আলোর গতিবেগ ভিন্ন মাধ্যমে ভিন্ন। ঘন মাধ্যমে আলোর গতিবেগ কম এবং হালকা মাধ্যমে আলোর গতিবেগ বেশি। আলো যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন গতিবেগের এই পরিবর্তনের কারণে আলোর দিক পরিবর্তিত হয়। এই ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
২. কেন নোড়া খালি গ্লাসে পানি ঢালতে গেলে উপরের থেকে তাকালে কেন নিচের অংশটিকে নিচে মনে হয়? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** খালি গ্লাসে পানি ঢাললে গ্লাসের তলদেশ থেকে আলো পানির মধ্য দিয়ে বায়ুতে প্রবেশ করে। পানি ঘন মাধ্যম এবং বায়ু হালকা মাধ্যম হওয়ায় আলো অভিলম্ব থেকে দূরে সরে আসে। ফলে গ্লাসের তলদেশের প্রতিবিম্ব প্রকৃত অবস্থানের চেয়ে উপরে গঠিত হয়। এ কারণে গ্লাসের নিচের অংশটি প্রকৃত অবস্থানের চেয়ে উপরে ভাসমান বা কাছাকাছি মনে হয়।
৩. সঙ্কট কোণ কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** যখন আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যায়, তখন আপতন কোণ বাড়ার সাথে সাথে প্রতিসরণ কোণও বাড়ে। এক সময় এমন একটি আপতন কোণ আসে যার জন্য প্রতিসরণ কোণ ৯০° হয় এবং প্রতিসৃত রশ্মি বিভেদতল বরাবর চলে যায়। এই নির্দিষ্ট আপতন কোণকেই সঙ্কট কোণ বলে। এই কোণের চেয়ে বড় আপতন কোণের জন্য পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে।
৪. পুকুরের পানিতে থেকেও মাছ ও জলজ জীবেরা স্বচ্ছলভাবে দৃষ্ট হতে পারে কেন? ব্যাখ্যা করো।
**উত্তর:** পুকুরের পানিতে থাকা মাছ থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে পানির পৃষ্ঠে প্রতিসরণের মাধ্যমে আমাদের চোখে আসে। পানি ঘন মাধ্যম এবং বায়ু হালকা মাধ্যম হওয়ায় আলো অভিলম্ব থেকে দূরে সরে আসে। এ কারণে মাছের প্রকৃত অবস্থানের চেয়ে কিছুটা উপরে মাছের অবাস্তব প্রতিবিম্ব গঠিত হয় এবং আমরা মাছটিকে স্বচ্ছলভাবে দেখতে পাই। analize kore presentation make koro